ছবিঃ সংগৃহীত
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে।
সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের অধীনে রবিবার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রদেশটিতে সরকার চালাচ্ছে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই); জরুরি অবস্থার ফলে তাদের নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা কার্যত স্থগিত হয়ে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জানান, তিনি মন্ত্রিসভার সুপারিশ অনুমোদন করেছেন।
রবিবার এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
শেহবাজ শরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রাদেশিক সরকারের ‘ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তার’ বিষয়টি সে সময় তাঁরা বিবেচনায় নেন।
অবশ্য জরুরি অবস্থার আওতায় ঠিক কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে কেন্দ্র-প্রদেশে বিরোধ
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির ঘটনা নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ইমরান খানের দলই প্রদেশটির সরকার পরিচালনা করছে। প্রাদেশিক প্রশাসন সন্ত্রাসবাদ দমনে যথাযথ ভূমিকা রাখছে না, এমন অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকারের।
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও নিরাপত্তা-সংকট দীর্ঘদিনের। তবে প্রাদেশিক সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগটি সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কোন নির্দিষ্ট ঘটনা বা তথ্যের ভিত্তিতে আনা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের বিবৃতিতে তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে কর্মসূচি
এদিকে পিটিআই রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের দাবি ইমরান খানের মুক্তি। ইমরান খান তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দী, তবু পাকিস্তানজুড়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন রয়েছে।
সরকারের সঙ্গে ইমরান খান ও তাঁর দলের রাজনৈতিক বিরোধ দীর্ঘদিনের। একদিকে তাঁর মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের আন্দোলন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রাদেশিক প্রশাসনের বিরোধ; এমন অবস্থায় খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
তবে ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের প্রস্তাবিত কর্মসূচির সঙ্গে জরুরি অবস্থা জারির সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না, কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। সূত্র: আল-জাজিরা