খামেনি হত্যায় ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা হয়নি, নেতানিয়াহুর লক্ষ্যও অবাস্তব: ইয়ার গোলান
ছবিঃ সংগৃহীত
ইসরায়েলের ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান মনে করেন, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার সিদ্ধান্তটি ইসরায়েলের স্বার্থের অনুকূলে যায়নি। ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে লক্ষ্য ঠিক করেছেন, সেটিকেও বাস্তবসম্মত মনে করছেন না তিনি।
গোলানের ব্যাখ্যা, খামেনি হত্যার যোগ্য ছিলেন কি না—তাঁর এ বক্তব্যের মূল বিষয় সেটি নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বার্থ কতটা অর্জিত হয়েছে।
তাঁর ভাষায়, ‘আমি মনে করি, নিঃসন্দেহে আলি খামেনিকে হত্যা করা ছিল একটি ভুল। তিনি মৃত্যুর যোগ্য ছিলেন না বলে নয়; বরং এই পদক্ষেপ ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করেনি।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই হামলায় নিহত হন আলী খামেনি। ইরানের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও সেই হামলায় প্রাণ হারান।
তার মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পান ছেলে মোজতবা খামেনি। ধারণা করা হয়, বাবার তুলনায় নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঝুঁকি নিতে বেশি আগ্রহী। সে কারণে নেতৃত্বের এই পরিবর্তন ইরানের নীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে, সে আলোচনা চলছে।
সরকার উৎখাতের লক্ষ্যকেও অবাস্তব বলছেন গোলান
গোলান শুধু ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার সিদ্ধান্তেরই সমালোচনা করেননি; ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার যে লক্ষ্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয় বলেই তাঁর মত।
তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মেলে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া আর দেশটির সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য একই বিষয় নয়। কোনো নেতাকে হত্যা করা হলেই একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে—এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।
বাবার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনির ক্ষমতায় আসা ইরানের নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় থাকার বিষয়টিকেই সামনে এনেছে। এতে প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্ব ও সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা কতটা অর্জনযোগ্য।
পারমাণবিক অস্ত্র প্রশ্নে আলী খামেনির অবস্থান
২০০৩ সালে একটি ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছিলেন আলী খামেনি। তাতে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তিনি। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, এমন অস্ত্র ইসলামের নীতি ও বিধানের পরিপন্থী।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তেহরানের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এই কর্মসূচিকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরান অবশ্য বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ায় ইরানের পারমাণবিক নীতি এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য, যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি এবং ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তন নিয়ে যখন বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই গোলানের এ মন্তব্য এল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলী খামেনিকে হত্যা করা হলেও তাতে ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থ নিশ্চিত হয়েছে—এমনটি বলা যাচ্ছে না। ইরানের সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্য অর্জন নিয়েও একই সঙ্গে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। সূত্র: আল-জাজিরা