ছবিঃ সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে একান্ত ব্যক্তিগত ও গোপনীয় এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রেখেছেন জিম ক্যারি ও মিন আহ। দীর্ঘদিনের এই প্রেমিকাকে বিয়ে করেছেন হলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা এবং ‘ব্রুস অলমাইটি’ খ্যাত এই তারকা।
এই দম্পতির বিয়ের খবর এলো এমন সময়ে, যখন ফরাসি চলচ্চিত্রের মর্যাদাপূর্ণ সেজার অ্যাওয়ার্ডসে তাঁদের একসঙ্গে জনসমক্ষে আসার পর মাত্র সাত মাস পেরিয়েছে। জিম ক্যারি এখন ৬৪ বছর বয়সী, মিন আহ-র বয়স ৩২; অর্থাৎ তাঁদের বয়সের ফারাক ৩২ বছর।
সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, ২০২২ সাল থেকেই দুজন সম্পর্কে আছেন।
বিয়ের খবরটি পিপল সাময়িকীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন জিম ক্যারির মুখপাত্র, গত ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার)। এরপর টিএমজেড জানায়, লস অ্যাঞ্জেলেসে ছোট পরিসরের এক ঘরোয়া আয়োজনে খুবই অল্পসংখ্যক অতিথির সামনে বিয়ের শপথবাক্য পাঠ করেন তাঁরা। সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলেও নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে এই দম্পতি বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছেন।
এই ঘোষণা এলো সেজার অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে দুজনকে প্রথমবার একসঙ্গে দেখা যাওয়ার সাত মাস পর। ওই পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে মিন আহ-কে নিজের ‘অনুপম জীবনসঙ্গী’ বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন জিম ক্যারি। দর্শকসারি থেকে অভিনেতার মেয়ে জেন, নাতি জ্যাকসন ও মিন আহ উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান গ্রহণ করার সময় উপস্থিত সবাই তাঁদের করতালি দিয়ে অভিবাদন জানান।
ফরাসি ভাষায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছিলেন জিম ক্যারি, যেখানে পরিবারের প্রতি ভালোবাসার কথা জানান তিনি। নিজের অসাধারণ পরিবার, মেয়ে জেন ও নাতি জ্যাকসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তাঁদের এখনো ভালোবাসেন এবং আজীবন ভালোবেসে যাবেন। ধন্যবাদ ও ভালোবাসার কথা জানান জীবনসঙ্গী মিন আহ-কেও। একেবারে শেষে ধন্যবাদ দেন বাবা পার্সি জোসেফ ক্যারিকে—তাঁর দেখা সবচেয়ে রসিক মানুষ, যাঁর কাছ থেকে তিনি শিখেছেন ভালোবাসা, উদারতা ও হাসির প্রকৃত মূল্য।
জিম ক্যারি ব্যক্তিগত জীবনে এ নিয়ে তৃতীয়বার বিয়ে করলেন। মেলিসা ওমারের সঙ্গে তাঁর সংসার ছিল ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত; সেই ঘরেই মেয়ে জেনের জন্ম। পরে ‘ডাম্ব অ্যান্ড ডাম্বার’ ছবির সহশিল্পী লরেন হোলিকে তিনি বিয়ে করেন ১৯৯৬ সালে, তবে এক বছরের মাথায় ১৯৯৭ সালে বিচ্ছেদ ঘটে তাঁদের। বিভিন্ন সময়ে জেনি ম্যাককার্থি, রেনে জেলওয়েগার, লিন্ডা রনস্টাড ও জানুয়ারি জোন্সের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি।
কানাডায় জন্ম নেওয়া জিম ক্যারির পেশাগত জীবনে অভিনয়ের শুরু স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান হিসেবে, আর ব্যাপক পরিচিতি আসে টেলিভিশন শো ‘ইন লিভিং কালার’-এর সুবাদে। ডেডলাইনের প্রতিবেদন বলছে, ১৯৯৪ সালে পরপর তিনটি সুপারহিট ছবি—‘এসি ভেনচুরা: পেট ডিটেক্টিভ’, ‘দ্য মাস্ক’ ও ‘ডাম্ব অ্যান্ড ডাম্বার’—তাঁকে রাতারাতি বিশ্বজোড়া তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এরপর ‘দ্য ট্রুম্যান শো’, ‘ইটারনাল সানশাইন অব দ্য স্পটলেস মাইন্ড’ ও ‘ম্যান অন দ্য মুন’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ান, জেতেন দুটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারও।
ফরাসি চলচ্চিত্র অঙ্গনের ৫১তম সেজার অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে সম্প্রতি বিশেষ সম্মানজনক পদক পেয়েছেন তিনি।