ছবিঃ সংগৃহীত
গোয়ার ডোনা পাউলার বাসভবনে বৃহস্পতিবার ভোরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকার। ৭৫ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। খবর এনডিটিভির।
নানা পাটেকার ভোরে বাসভবনে থাকা অবস্থায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। এরপর দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। তাঁকে বাঁচাতে সেখানকার চিকিৎসকেরা চেষ্টা চালান প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আর সাড়া দেননি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা দেন চিকিৎসকেরা।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের যেন আকস্মিক সমাপ্তি ঘটল নানা পাটেকারের মৃত্যুতে। অভিনয়ে নিজের স্বতন্ত্র ছাপ তিনি রেখে গেছেন হিন্দি ও মারাঠি—উভয় ভাষার চলচ্চিত্রে। অন্যদের থেকে তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল তাঁর তীব্র অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার নিজস্ব ঢং আর চরিত্রের গভীরে প্রবেশের ক্ষমতা।
বড় পর্দায় নানা পাটেকারের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে, ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে। পরে নিজের অবস্থান মজবুত করেন ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘ওয়াজুদ’, ‘নাটসম্রাট’, ‘আব তক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’সহ অসংখ্য সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি, যা তাঁর অভিনয়েরই স্বীকৃতি।
তবে ‘ওয়েলকাম’ সিনেমার উদয় শেঠি চরিত্রটির কারণে একটি প্রজন্মের দর্শক নানা পাটেকারকে আরও বেশি মনে রেখেছে। সিনেমাটি ২০০৭ সালের; সেখানে তাঁর অভিনয়, সংলাপ ও অঙ্গভঙ্গি দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। একই চরিত্র নিয়ে তিনি পরে ফিরেছিলেন ‘ওয়েলকাম ব্যাক’-এও।
অভিনয়ের গণ্ডিতেই আটকে থাকেননি নানা পাটেকার; দক্ষতা দেখিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাণ ও লেখালেখিতেও। এমন সব চরিত্র তিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রূপায়ণ করেছেন, যা ভারতীয় সিনেমার দর্শকদের মনে পাকাপাকি ঠাঁই করে নিয়েছে।
ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তাঁর প্রয়াণের সংবাদে। নানা পাটেকারের মৃত্যুকে সহকর্মী, ভক্ত ও সিনেমাপ্রেমীরা শুধু একজন অভিনেতার চলে যাওয়া হিসেবে দেখছেন না; তাঁদের কাছে এটি পর্দার একটি স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীরও অবসান।
সূত্র: এনডিটিভি