জ্বালানি সহযোগিতায় আলজেরিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই বাংলাদেশের
ছবিঃ সংগৃহীত
জ্বালানিখাতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া। জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে দেশটি থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।
গতকাল মঙ্গলবার আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে নিজ নিজ দেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং আলজেরিয়ার হাইড্রোকার্বনবিষয়ক মন্ত্রী মোহামেদ আরকাব।
আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জিটুজি ভিত্তিতে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি, দেশে এসব জ্বালানির অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তেল, গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধানে সহযোগিতা। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে আলজেরিয়ার জ্বালানিখাতের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের অনুরোধ জানান বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রী।
সই শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে এবং এর মাধ্যমে জিটুজি ব্যবস্থায় আফ্রিকার বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে ২০ অক্টোবর আলজেরিয়ার খনি ও খনিজ শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী মুরাদ হানাফি এবং জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী মুরাদ আদজাল পৃথকভাবে বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রেক্ষাপট
আলজেরিয়ার সঙ্গে এ সহযোগিতার প্রস্তুতি চলছিল কয়েক মাস ধরে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের দুই মন্ত্রী; ওই বৈঠকে সোনাট্রাকের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী নুরুদ্দিন দাউদি, আলজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং পেট্রোবাংলা, বিপিসি ও আরপিজিসিএলের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন এবং একটি যৌথ কর্মদল গঠনে সম্মত হন দুই মন্ত্রী — দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ১০ সেপ্টেম্বর এ তথ্য জানিয়েছে।
এরপর ৫ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানি; ওই বৈঠকে জিটুজি কাঠামোয় আলজেরিয়া থেকে এলএনজির পাশাপাশি সারও আমদানির পরিকল্পনার কথা জানানো হয় এবং রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের পর আরব বিশ্বে আলজেরিয়াই প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল — ইউএনবি ৫ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে।
সংখ্যার হিসাব
দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহে বাংলাদেশের বড় ভরসা এখন কাতার ও ওমান। কাতারের সঙ্গে প্রথম দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই হয় ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৫ বছরের জন্য বছরে ১৮ লাখ থেকে ২৫ লাখ টন এলএনজির; সরবরাহ শুরু হয় ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। পরে কাতারএনার্জি ট্রেডিংয়ের সঙ্গে আরও ১৫ বছরের দ্বিতীয় চুক্তি হয় বছরে সর্বোচ্চ ১৮ লাখ টনের — দ্য ডেইলি স্টার ১ জুন ২০২৩ এ তথ্য জানিয়েছে।
ওমানের ওকিউ ট্রেডিংয়ের সঙ্গেও পেট্রোবাংলা বছরে আড়াই লাখ থেকে ১৫ লাখ টনের আরেকটি চুক্তি করে, যা চলবে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত; এতে ২০২৬ সাল নাগাদ দীর্ঘমেয়াদি আমদানিসক্ষমতা ৭৩ লাখ টনে পৌঁছানোর কথা ছিল — দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ১৯ জুন ২০২৩ এ তথ্য জানায়।
দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ৮৬টি কার্গো আনার পরিকল্পনা ছিল, ২০২৫ সালে যা ছিল ৫৬টি; স্পট বাজার থেকে আনার লক্ষ্য ১৭টি কার্গো, আগের বছর যা ছিল ৪৯টি। একই প্রতিবেদনে আরপিজিসিএলের তথ্যের বরাতে বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৫৫৪টি কার্গোতে প্রায় ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার টন এলএনজি আমদানি হয়েছে।