হত্যাচেষ্টা মামলায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিলীপ আগরওয়ালার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ছবিঃ সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন সাংবাদিকদের জানান, হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে অর্থ পাচার মামলায় রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট বেলা ১২টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিএনএস সেন্টারের পশ্চিমে রাস্তায় আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিচ্ছিলেন। অভিযোগ অনুসারে, আসামিদের নির্দেশে ও উপস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত গুলি চালানো হয় এবং এতে আন্দোলনকারী আ. জব্বার গুলিবিদ্ধ হয়ে মেরুদণ্ডের নিচের অংশে গুরুতর জখম হন। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয় এবং সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. সুমন মিয়া আসামি দিলীপ কুমারকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অন্যান্য আসামির তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন ও শুনানি শেষে বিচারক চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ পদপ্রার্থী। ঘটনার দিন তিনি অন্যান্য আসামির সঙ্গে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রেক্ষাপট
গত ১৯ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর বনানী থেকে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা; পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি মামলার সূত্রে এ গ্রেফতার হয় বলে নিশ্চিত করেন ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম — যুগান্তর ২০ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয় থেকে তৎকালীন র্যাব তাঁকে আটক করেছিল—স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে; পরে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বাড্ডায় কিশোর হৃদয় আহমেদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে তিনি জামিনে মুক্তি পান — যুগান্তর ২০ অক্টোবর এবং দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ১৯ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে (আলমডাঙ্গা ও সদর উপজেলার অংশবিশেষ) ২০২৩ সালের নির্বাচনী সময়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন — প্রথম আলো ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ এ তথ্য জানিয়েছে।
সংখ্যার হিসাব
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট গত বছরের ১৭ নভেম্বর গুলশান থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত)-এর ৪(২)(৪) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে; অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে স্বর্ণ ও হীরা ক্রয় এবং বিনিময়ের মাধ্যমে সংগৃহীত ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার উৎস ও সরবরাহকারীর বৈধ নথি প্রতিষ্ঠানটি দেখাতে পারেনি — দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ১৮ নভেম্বর ২০২৫ এ তথ্য জানিয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত তাঁর সাতটি ফ্ল্যাট, দুটি দোকানসহ স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন; দুদকের অভিযোগ, তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে এবং তাঁর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে — টিবিএস নিউজ বাংলা ১ ডিসেম্বর ২০২৫ এ তথ্য জানিয়েছে।