ঢাকায় সাবরেজিস্ট্রারদের পদায়নে আসছে লটারি পদ্ধতি, জানালেন আইনমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ঢাকা শহরের সাবরেজিস্ট্রারদের পদায়নের ক্ষেত্রে লটারি ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে শনিবার অনলাইনে তালাক ও নিকাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় থাকার কারণে ঢাকা শহরের সাবরেজিস্ট্রারদের বদলি করতে গেলেই বিভিন্ন দিক থেকে তদবির আসতে থাকে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যই ঢাকা শহরের ভেতরে তাঁদের পদায়নকে লটারি ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে নিয়মনীতি মেনেই।
অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ করা এবং সেই তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করার একটি পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য সংযুক্ত করা হবে পর্যায়ক্রমে; এসব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে যুক্ত হয়ে গেলে একটি ব্যবস্থা থেকেই একজন ব্যক্তির বিভিন্ন তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধের কাজে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য কাজে লাগিয়ে সহায়তা পাওয়া যাবে। এক জায়গায় বিয়ে করার পর কেউ যদি সে তথ্য গোপন রেখে অন্য কোথাও আবার বিয়ে করতে যান, তাহলে অনলাইনে তাঁর আগের তথ্য দেখা যাবে; ফলে আগের স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই আরেকটি বিয়ে নিবন্ধন করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য থাকলে ভবিষ্যতে কেউ মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী বা সন্তানদের তরফে একাধিক দাবি উঠলেও তা নিবন্ধিত তথ্য দিয়ে যাচাই করে নেওয়া যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, এর ফলে এমন দাবিকে ঘিরে মামলা-মোকদ্দমার সুযোগ কমে আসবে, রাষ্ট্রের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হবে না।
তিনি জানান, যাঁরা বিদেশে অবস্থান করছেন কিংবা যাঁদের বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তাঁদের ক্ষেত্রেও অনলাইনে সংরক্ষিত তথ্য কাজে আসবে। তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার পর কেউ স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকেই অনলাইনে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে; ওই ব্যক্তির প্রকৃত স্ত্রী কে, তা-ও জানা যাবে দ্রুত।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত থাকে বিভিন্ন দেশে। এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে নানা তথ্য সংযুক্ত করার ব্যবস্থা বাংলাদেশেও গড়ে তোলা হচ্ছে। এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও যুক্ত হলে কেন্দ্রীয়ভাবেই একজন ব্যক্তির তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।