ঢাবি ক্যাম্পাসের দোকানে তামাক বিক্রি বন্ধে কড়া নজরদারির নির্দেশ
ছবিঃ সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী তাগিদ দিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকানে তামাকজাত পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে যেন কার্যকর নজরদারি চালানো হয়। এসব পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুমতি বা অনুমোদনের বিষয় থেকে থাকলে সেটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলেছেন তিনি।
তামাক ও ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী কলা ভবনের সভাকক্ষে; সেখানেই তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির যৌথ উদ্যোক্তা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও ডর্প।
অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে তামাক ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে হলে সচেতনতার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপও নিতে হবে। তামাকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার উদ্যোগ যাতে কেবল আলোচনা সভার গণ্ডিতে আটকে না থাকে এবং বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়াতে ক্যাম্পাসের নানা জায়গায় তামাকবিরোধী লিফলেট, পোস্টার ও স্টিকার প্রদর্শনের পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তরুণদের মধ্যে তামাক ও ধূমপানের ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য দরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ। তিনি আরও জানান, আয়োজকেরা বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব দিলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।
সভার বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে তামাক ও ধূমপানের স্বাস্থ্যঝুঁকি, তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান, ক্যাম্পাসে তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়গুলো। তামাকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করার জন্য আইন ও নীতিমালা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা এবং তার সঙ্গে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর ওপর তাঁরা জোর দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার। ডর্পের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম নোমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন, আর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্পের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর জেবা আফরোজ। আলোচক হিসেবে ছিলেন সিটিএফকে বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুস সালাম মিয়া এবং ডর্পের উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. আজহার আলী তালুকদার। সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও অতিথিরাও অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন।