তুরস্কে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১২৩.১৪ শতাংশ, অপ্রচলিত বাজারের ৫৬.৫৮ শতাংশই পাঁচ দেশে
ছবিঃ সংগৃহীত
জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া—অপ্রচলিত বা নতুন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫৭ শতাংশই এই শীর্ষ পাঁচ দেশে কেন্দ্রীভূত।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এই পাঁচ দেশে ১০২ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি বেড়েছে ৯.৬২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে সব অপ্রচলিত বাজার মিলিয়ে পোশাক রপ্তানির মোট অঙ্ক ১৮১ কোটি ডলার।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পোশাক, যা অপ্রচলিত বাজারে মোট পোশাক রপ্তানির ১৮.৯৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এ রপ্তানি ২.৬১ শতাংশ বেশি।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় তিন মাসে গেছে ২০ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১.০২ শতাংশ বেশি।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক। তবে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে কেবল ভারতেই রপ্তানি কমেছে—গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫.৩৭ শতাংশ।
প্রবৃদ্ধিতে সবার ওপরে তুরস্ক। দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১২৩.১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।
দক্ষিণ কোরিয়ায় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ১২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ৮.৮১ শতাংশ।
তিন মাসের সার্বিক হিসাবের পাশাপাশি শুধু সেপ্টেম্বর মাস ধরলেও রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ওই মাসে শীর্ষ পাঁচ দেশে পোশাক রপ্তানি ১৬.৭৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার; আগের বছরের সেপ্টেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
সেপ্টেম্বরেও প্রবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল তুরস্ক, যেখানে রপ্তানি বেড়েছে ২২৪.৯৩ শতাংশ এবং পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৭.৮৮ শতাংশ ও জাপানে ৫.১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে এ মাসে ভারতে ০.৮৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ০.১৪ শতাংশ রপ্তানি কমেছে।
অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির অংশ ও প্রবৃদ্ধি বাড়াকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং ভয়েস অব অ্যাপারেলের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল। তিনি বলেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রচলিত বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে নতুন বাজারে বিস্তার জরুরি।
রুবেল জানান, বর্তমানে দেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ যাচ্ছে অপ্রচলিত বাজারে; এই অংশ বাড়ানো গেলে সামগ্রিক রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তাঁর ভাষ্য, অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য, সেখানে আরও বেশি পোশাক পাঠানোর সুযোগ আছে। ভারতের বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও তা প্রত্যাশামতো বাড়েনি। আর ক্রয়ক্ষমতা ভালো হওয়ায় অস্ট্রেলিয়াতেও রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে পণ্যের গুণগত মানের পাশাপাশি এফওবি মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন রুবেল। তাঁর মতে, এসব বাজারে কেবল পরিমাণ নয়, বৈচিত্র্য, মান ও দামের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়। তাই মূল্য সংযোজিত ও উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়াতে নতুন বাজারে আরও মনোযোগী হতে হবে।