ছবিঃ সংগৃহীত
থাইল্যান্ডে বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন আটজন; চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে চলা টানা বৃষ্টিতে এ বন্যার সৃষ্টি। নিহতদের মধ্যে সা কাও প্রদেশের বাসিন্দা পাঁচজন, চান্থাবুরির দুজন এবং সারাবুরির একজন। ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানী ব্যাংককে দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে সেখান থেকে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে চলা টানা বৃষ্টিতে। ব্যাংককের বাইরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির ২৭টি প্রদেশে বন্যাকবলিত হয়েছে ৫ লাখেরও বেশি পরিবার এবং ১৭ লাখ মানুষ। এর সঙ্গে রাজধানীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা আরও ৫২ হাজার। সেখানে প্রায় ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে খাল-নালা উপচে পড়ে রাস্তাঘাট ডুবে যায়, যার কারণে গোটা শহরে দুর্যোগ ঘোষণা করতে হয়েছিল।
তবে পূর্বাঞ্চলের অন্তত একটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ও ভারী বৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছেন এএফপির সাংবাদিকরা; সেখানে হাঁটুসমান পানি ভেঙে চলাফেরা করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুলগুলো, আর লোকজনকে বাড়িতে থেকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ আহ্বানে অনেকে সাড়া দেওয়ায় সোমবার সকালে গণপরিবহন ও রাস্তাঘাটে ভিড় তুলনামূলক কম দেখা যায়।
এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারি মুখপাত্র এক্কাপব পিয়ানপিসেস বলেন, পানির স্তর এখনো অনেক বেশি রয়ে গেছে ব্যাংককের কিছু এলাকায়। তিনি জানান, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ফলে পানির স্তর খানিকটা কমে এসেছে; এতে আগের তুলনায় বেশিসংখ্যক মানুষ এখন চলাচল করতে পারছেন। বর্ষাকালীন আবহাওয়া থাইল্যান্ডে স্বাভাবিক ব্যাপার, আর বর্ষার চূড়ান্ত সময় হলো সেপ্টেম্বর মাসই। তবে অনেক বাসিন্দা বলছেন, এবারের পরিস্থিতি আগের বছরগুলোর চেয়ে অনেক বেশি খারাপ বলে মনে হচ্ছে।