নড়াইলে ৫৪৩ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, প্রতিমায় চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড়
ছবিঃ সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজা দোরগোড়ায়; তাই রং-তুলির শেষ আঁচড় দিতে জেলার প্রতিমাশিল্পীদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। পালাক্রমে দিন-রাত কাজ চলছে, আর তাতে নান্দনিক রূপ পাচ্ছে প্রতিমা। অধিকাংশ পূজামণ্ডপের সাজসজ্জাও শেষ পর্যায়ে।
নড়াইল শহরের বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও প্রতিমার গায়ে রং পড়ছে, কোথাও বসানো হচ্ছে অলংকার। শিল্পীদের নিপুণ হাতে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ নিচ্ছে। প্রতিটি প্রতিমাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি ও রঙের কাজ সারতে শিল্পীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন।
মাটি, খড় ও বাঁশের কাঠামো থেকে রং ও সাজসজ্জা—প্রতিটি ধাপেই মিশে আছে কারিগরদের শ্রম ও সৃজনশীলতা, আর সেই নিপুণ কারুকাজেই প্রতিমাগুলো সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে। বছরের এই সময়ে প্রতিমা তৈরি ঘিরে প্রতিমাশিল্পীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য বাড়ে; প্রতিমার শেষ সাজ দেখতে মণ্ডপগুলোতেও অনেকে ভিড় করছেন।
আগামী ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এরপর ১৮ অক্টোবর সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর অষ্টমী, ২০ অক্টোবর নবমী এবং ২১ অক্টোবর দশমী পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ৫ দিনের উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার তিনটি উপজেলায় মোট ৫৪৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে—সদর উপজেলায় ২৪৯টি, লোহাগড়া উপজেলায় ১৫০টি এবং কালিয়া উপজেলায় ১৪৪টি মণ্ডপে।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাড. পংকজ বিহারী ঘোষ অন্ন বাসস’কে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে এবং প্রতিটি মন্দিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ কাজে নিয়োজিত আছেন; গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। তাঁর ভাষ্য, দুর্গাপূজা এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে—হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এতে অংশ নেন।
পূজার আগে, পূজা চলাকালে ও পরে মণ্ডপগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা থাকবে বলে বাসস’কে জানান নড়াইলের পুলিশ সুপার মো. আল মামুন শিকদার। প্রতিটি মণ্ডপে নারী-পুরুষ আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে থাকবে পুলিশ মোতায়েন; আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন, থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি, আর যানজট সামলাতে তৎপর থাকবে ট্রাফিক পুলিশ।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বাসস’কে বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৬শ’ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুর্গোৎসব ঘিরে কেউ বিঘ্ন ঘটানো বা অপতৎপরতার চেষ্টা করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে; পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন তৎপর আছে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা পালিত হবে বলে আশাবাদ জানান তিনি।
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম জানান, আসন্ন দুর্গোৎসব যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয়, সে জন্য বিএনপি’র পক্ষ থেকে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।