ছবিঃ সংগৃহীত
চ্যাম্পিয়নস লিগে মঙ্গলবার গ্যালাতাসারেকে তাদেরই মাঠে ৪-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। ইস্তাম্বুলের আলি সামি ইয়েন স্টেডিয়ামের উত্তপ্ত আবহে প্রথমার্ধের কঠিন সময় পেরিয়ে ছন্দে ফেরে কাতালান ক্লাবটি ও লামিন ইয়ামাল।
দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিকদের রক্ষণভাগ কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ইয়ামালের কাছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচগুলোর অর্ধেক শেষে টানা দুই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বার্সেলোনা। গ্যালাতাসারে অবশ্য এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি; তারা আছে তালিকার নিচের দিকে।
শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল বার্সেলোনার। ডান প্রান্তে ইয়ামালকে কড়া পাহারায় রাখায় তাদের বেশির ভাগ আক্রমণ গড়ে ওঠে বিপরীত প্রান্তে অ্যান্থনি গর্ডনকে দিয়ে।
তবু ২৭ মিনিটে এগিয়ে যায় গ্যালাতাসারে। পেনাল্টি বক্সে গর্ডন পড়ে গেলে বাঁ প্রান্ত দিয়ে রাফায়েল লেয়াওয়ের নেতৃত্বে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা।
বক্সের প্রান্তে লেয়াওয়ের বাড়ানো বলে রুশ খেলোয়াড় আলেক্সেই বাতরাকভের শট হুয়াও কানসেলোর গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়ায়।
গোল পেয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। কর্নার থেকে ভিক্টর ওসিমেনের হেড গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করলেও বলটি পায়ের ছোঁয়ায় গোললাইন পার করানোর সময় বারিস ইলমাজ অফসাইডে থাকায় গোল বাতিল হয়।
এরপর ম্যাচের লাগাম ফের নেয় বার্সেলোনা। বক্সের প্রান্তে ইয়ামাল পড়ে গেলে বল পান ডেভিনসন সানচেজ, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। বল চলে যায় দানি ওলমোর কাছে, আর তাঁর পাস থেকে গোল করেন কানসেলো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচ নিজের হাতে তুলে নেন ইয়ামাল। তাঁর পাস থেকে গর্ডন সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। তবে ৫০ মিনিটে ইয়ামালের নিখুঁত বাঁকানো ক্রসে হেডে গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ফারমিন।
তিন মিনিট পর ছোট্ট জায়গায় তিনবার, তিনটি ভিন্ন কৌশলে এরেন এলমালিকে পরাস্ত করে গোলের সামনে থাকা গর্ডনকে বল বাড়ান ইয়ামাল। এবার আর ভুল করেননি ইংল্যান্ডের এই স্ট্রাইকার।
৬৫ মিনিটে নিজের প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে বদলি সেন্টার ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে পাস দেন ইয়ামাল। সাবেক আর্সেনাল ফরোয়ার্ড বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলেও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বল চলে যায় করিম আদেয়েমির সামনে, আর জোরালো শটে তিনি বল জালে পাঠান।
ইয়ামাল নিজেও গোল পেতে পারতেন; কিন্তু বলের দখল নিতে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে নেওয়া তাঁর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
ফলে গোল ছাড়াই ম্যাচ শেষ করেন ১৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। গোল পেলে চ্যাম্পিয়নস লিগে টিনএজার হিসেবে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারী কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ডের আরও কাছে যেতে পারতেন তিনি।