‘মাছে-ভাতে বাঙালির পরিচয় টিকিয়ে রাখতে মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই’
ছবিঃ সংগৃহীত
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি মন্তব্য করেছেন, মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার জন্য মৎস্য উৎপাদন আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অনেকটাই এগিয়ে; এ অবস্থানকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ আজ সকালে পোনামাছ অবমুক্তকরণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। মৎস্যবিজ্ঞান ভবনের প্রফেসর মোহাম্মদ শফি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফিশারিজ খাতের পরিধি যেমন অত্যন্ত বড়, তেমনি এতে কর্মসংস্থানের সুযোগও বিস্তৃত। একসময় এ খাতকে মানুষ তেমন গুরুত্ব দিত না; তবে যত দিন যাচ্ছে, মানুষ ততই এর গুরুত্ব উপলব্ধি করছে এবং পরিধি সম্পর্কেও জানতে পারছে।
তিনি বলেন, মৎস্য খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখার সামর্থ্য রাখে। বিষয়টি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনুধাবন করেছিলেন। মৎস্য খাতকে এগিয়ে নিতে এবং মৎস্যসম্পদের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধ করতে তিনি খাল খনন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন; একই সঙ্গে মৎস্য চাষে মানুষকে উদ্বুদ্ধও করেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৎস্য পক্ষের সূচনা করেন। পরে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নদ-নদীর নাব্যতা ও দূষণের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক নদীর নাব্যতা বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে। দূষণমুক্ত করে নদীগুলোর নাব্যতা ফেরানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণে বাংলাদেশ সক্ষম হলে দেশের অর্থনীতিতে তা বিশাল ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য খাতে আগামীর বাংলাদেশে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে; এ খাতে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্র ও জীবন গঠনে নিজেদের এগিয়ে নিতে পারবেন। মৎস্য খাতকে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, জ্ঞানচর্চার মধ্য দিয়ে এ খাতের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে হবে; আর ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য মৎস্য শিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়াহিদা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওয়ায়দুল ইসলাম। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী পোনামাছ অবমুক্ত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পুকুরে।