মার্কোসুর চুক্তির আওতা বাড়াতে এগোচ্ছে ব্রাজিল ও ভারত
ছবিঃ সংগৃহীত
‘মার্কোসুর’ বাণিজ্য চুক্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করার কাজে হাত দিয়েছে ব্রাজিল ও ভারত। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য তিন হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার বিশাল এক লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে; তা অর্জনেই এ উদ্যোগ। এর মধ্য দিয়ে নতুন মাত্রা পেতে চলেছে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক।
ব্রাজিলের উন্নয়ন, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী মার্সিও ইলিয়াস রোজা জি-২০ বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকের অবকাশে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকের পর সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে তিনি জানান, ভারতের অর্থনীতি গোটা বিশ্বের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর দেশটির সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্কও বেশ ভালো। এখনকার বাণিজ্য চুক্তিটি সীমিত হওয়ায় তাঁরা এখন বিস্তৃত একটি চুক্তির পথে হাঁটছেন।
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও বলিভিয়া—এই দেশগুলো নিয়ে গড়ে ওঠা দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোটের নাম ‘মার্কোসুর’। ভারতের সঙ্গে মার্কোসুরের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) কার্যকর আছে ২০০৯ সালের জুন থেকে। এ চুক্তিতে ভারতের ৪৫০টি ও মার্কোসুরের ৪৫২টি পণ্য ১০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ছাড় পায়।
এ সংখ্যাকে খুবই নগণ্য মনে করেন ব্রাজিলের মন্ত্রী। সে কারণে চুক্তিটিকে এখন পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) পরিণত করার পরিকল্পনা করছে দুই দেশ; তাতে পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগে উভয় দেশের সামনেই বড় বাজার খুলে যাবে।
চুক্তির পরিসর বাড়ানোর আলোচনা শুরু হয়েছিল গত ১৪ সেপ্টেম্বর, আর ১ অক্টোবর দুই দেশ চুক্তির রূপরেখা, অর্থাৎ ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ চূড়ান্ত করার কাজ সম্পন্ন করেছে। রোজা জানান, এটি অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে রূপরেখা তৈরি হচ্ছে তার মতো; রূপরেখা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় এবার চলবে নতুন প্রস্তাবনা তৈরির কাজ। পাশাপাশি কাস্টমসের ঝামেলা এড়ানোর লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট গ্রহণ-সংক্রান্ত একটি প্রটোকলেও গত ১৪ সেপ্টেম্বর সই করেছে দেশ দুটি, যা কাগজবিহীন বাণিজ্যকে আরও সহজ করবে।
বাণিজ্যের নতুন এ লক্ষ্যমাত্রা স্থির হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা যখন ভারত সফরে ছিলেন। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতার মধ্যে রপ্তানির জন্য নতুন বাজারের সন্ধানই এ পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
ভারতের সঙ্গে নিজের বৈঠককে ‘চমৎকার’ আখ্যা দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী রোজা জানান, সামনের মাসগুলোতে এ নিয়ে আরও কাজ হবে। আগামী দিনে দুই দেশ কেবল শুল্ক ছাড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বায়োইকোনমি, চক্রাকার অর্থনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও তারা যৌথভাবে কাজ করবে।