শাখা ও সংযোগ সড়কে এখনো ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ভয়, সোনারগাঁয়ে টহল বাড়ানোর দাবি
ছবিঃ সংগৃহীত
পুলিশের তৎপরতা ও নিয়মিত টহলের কারণে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির আতঙ্ক অনেকটা কমে এসেছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে মহাসড়কে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও উপজেলার ভেতরের ও সংযোগ সড়কগুলোতে মাঝেমধ্যে ডাকাতি, ছিনতাই এবং মাদকসেবীদের উৎপাতের অভিযোগ রয়ে গেছে। এসব সড়কেও পুলিশি নজরদারি ও টহল বাড়ানোর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, একসময় কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাতে চলাচলের সময় ডাকাতির ভয়ে থাকতেন চালক ও যাত্রীরা। পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, দূরপাল্লার বাস এবং প্রবাসীদের বহন করা যানবাহনের চালকদের মধ্যে এই উদ্বেগ ছিল বেশি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্প্রতি সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা বেড়ে যাওয়া এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
এর আগে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। তারপর থেকে অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা চলছে, আর সোনারগাঁ থানা পুলিশও নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার করছে।
তবে মহাসড়কের এই উন্নতির পরও উপজেলার বিভিন্ন শাখা ও সংযোগ সড়ক নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। বিশেষ করে রাতে নির্জন পথ দিয়ে যাতায়াতকারী চালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ডাকাতি-ছিনতাইয়ের শঙ্কায় থাকেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মহাসড়কে পুলিশের নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানোর সুফল মিলছে; উপজেলার ভেতরের সড়কগুলোতেও একইভাবে টহল বাড়ালে অপরাধীদের তৎপরতা আরও কমানো সম্ভব হবে। সে জন্য অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি এবং রাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সচেতন মহলের মতে, সোনারগাঁয়ের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সোনারগাঁ থানা পুলিশ, কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ ও তালতলা তদন্তকেন্দ্রের মধ্যে আরও সমন্বয় দরকার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর করা যেতে পারে বলেও মনে করেন তাঁরা।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ‘চলতি বছরের ২১ আগস্ট সোনারগাঁ থানায় যোগদান করেছি। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অপরাধ দমনে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ৩০ জন ডাকাতসহ মাদক বিক্রেতা, মাদকসেবী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত প্রায় ৮০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ সোনারগাঁয়ের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশের অভিযান চলতে থাকবে বলেও জানান তিনি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মহাসড়কে নিরাপত্তা পরিস্থিতির যে উন্নতি হয়েছে তা ধরে রাখা হবে, পাশাপাশি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ শাখা সড়কগুলোতেও পুলিশের নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে—এতে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।