ছবিঃ সংগৃহীত
কেশব মহারাজ ও বিয়র্ন ফরচুইনের স্পিন-জাদুতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অজিদের উড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এর আগে ব্যাটিংয়ে ইনিংসের শুরুতে বেশ চাপে পড়া স্বাগতিকদের টেনে তোলেন ম্যাথিউ ব্রিটজকে, দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে। শেষ ভাগে মার্কো ইয়ানসেন আগ্রাসী ব্যাটিং করলে দলের রান পৌঁছায় তিনশোর কাছাকাছি। জবাব দিতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পাওয়া অস্ট্রেলিয়া যখন ম্যাচ নিজেদের মুঠোয় নেওয়ার পথে, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন এই দুই স্পিনার।
ডারবানে বৃহস্পতিবার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রোটিয়াদের জয় ৬৭ রানে, যার ভিত্তি ব্রিটজকের চোখধাঁধানো ১১২ রানের ইনিংস। উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামা অস্ট্রেলিয়া যেন নিজ হাতেই স্বাগতিকদের জয়টা তুলে দিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২৯৭ রান। তাড়া করতে নেমে শুরুটা ঝোড়ো হলেও বাজে শট নির্বাচনের খেসারত দিয়ে ধসে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১০১ রানের মধ্যে শেষ ৯ উইকেট খুইয়ে তাদের ইনিংস থামে ২৩০ রানেই।
জোহানেসবার্গে আগামী রোববারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ফিরতে পারেন—এই সম্ভাবনা অস্ট্রেলিয়ার জন্য খানিকটা স্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে ২০২৭ বিশ্বকাপ হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে; সেই আসরের প্রস্তুতির বিবেচনায় এ হার অস্ট্রেলিয়াকে নিশ্চিতভাবেই বড় দুশ্চিন্তায় ফেলবে।
ম্যাচের সকালে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ছিল ব্যাটিং করাটাই। অস্ট্রেলিয়া টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেয়, আর তাদের বোলাররা শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার রানের চাকা প্রায় থামিয়েই দিয়েছিলেন। তবে চার নম্বরে নামা ব্রিটজকে প্রথাগত ক্রিকেটীয় শট খেলে ইনিংস গুছিয়ে নেন; পরে মারকুটে অলরাউন্ডার ইয়ানসেনের কাছ থেকে দারুণ সঙ্গ পান তিনি।
ব্রিটজকে খেলেন ১০৬ বলে ১১২ রানের নান্দনিক ইনিংস; এখন পর্যন্ত খেলা ১৫টি ওয়ানডেতে তার ব্যাটিং গড় ৬০-এর বেশি। নিজের সেরা ওয়ানডে ইনিংস ছুঁয়েছেন ইয়ানসেন, করেছেন ৫৯ বলে ৭৫ রান। বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হয় ষষ্ঠ উইকেটে এ দুজনের ১০৭ রানের জুটিতেই। এক পর্যায়ে ২৫০ রান হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল; অথচ শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২৯৭ রানের সেই পুঁজিই হয়ে ওঠে জয়ের মজবুত ভিত্তি।
রান তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা হয় দুর্দান্ত। উদ্বোধনী জুটিতে ট্রাভিস হেডকে (৩৭ বলে ৩৬) নিয়ে মিচেল মার্শ মাত্র ৯.২ ওভারেই তোলেন ৯০ রান; এর মধ্যে ৩৬ বলে ঝোড়ো ৬০ রান আসে মার্শের একার ব্যাট থেকে।
অথচ তেমন কোনো চাপ ছিল না; তবু এরপর ব্যাটাররা একে একে দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলে উইকেট দিয়ে আসেন। সুবিধাজনক জায়গায় থেকেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় অজিরা চলে যায় ব্যাকফুটে, সেই সঙ্গে রানের গতিও থমকে যায়।
৪৪ রান করা ম্যাট রেনশ ফেরেন বাউন্ডারি লাইনে ইয়ানসেনের ডাইভ দিয়ে এক হাতে নেওয়া অবিশ্বাস্য এক ক্যাচে; তাতে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২১৫ রান। ওই ধাক্কা কাটিয়ে সফরকারীরা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
প্রোটিয়াদের দুই স্পিনারই ছিলেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রধান কারিগর। কেশব মহারাজ ৯.২ ওভার বল করে মাত্র ২০ রান খরচায় তুলে নেন ৪ উইকেট; বিয়র্ন ফরচুইনের শিকার ২ উইকেট, ৮ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে।
আগামী রোববার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ।