‘লংমার্চের নামে জ্বালানি অপচয় করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বিরোধী জোট’
ছবিঃ সংগৃহীত
দুই থেকে তিন হাজার গাড়ি সঙ্গে নিয়ে লাখ লাখ লিটার তেল ও গ্যাসের অপচয় ঘটিয়ে ১১ দলীয় জোট সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, জোটটির কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগাহ থেকে ভেন্ডাবাড়ী সড়ক শক্তিশালীকরণ ও মেরামত কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর একটি সংক্ষিপ্ত পথসভার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারকে এখন যে সংকট সামাল দিতে হচ্ছে, তা সৃষ্টি হয়েছিল বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের আমলে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অথচ একটি নির্বাচিত সরকারকে পতনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে সরকার গঠনের ছয় মাস পূর্ণ না হতেই।
তিনি বলেন, সরকারের পতন ঘটানো অত সহজ কাজ নয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সরকার গঠন করেছি ২০ বছর ধরে অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে। এ গদি জনগণের গদি। এ সরকার জনগণের সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত, একে সহজে সরানো যাবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের জন্য আমরা পাঁচ বছর কাজ করতে চাই। তারপর ভোট চাইতে জনগণের কাছে যাব। কাজ পছন্দ হলে মানুষ ভোট দেবেন, পছন্দ না হলে দেবেন না। দেশ কারা পরিচালনা করবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন জনগণই।
জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যার ফলে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম হয়। এ দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আর ফিরতে দেবে না; তারা মেনে নেবে না এ ধরনের কোনো ষড়যন্ত্রও।
সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় রংপুরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।
তিনি বলেন, সারা দেশে সুষম উন্নয়নে বিএনপির বিশ্বাস রয়েছে। রংপুরেও অন্যান্য অঞ্চলের মতো উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল মানুষ আগামী সাড়ে চার বছরে দেখতে পাবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেহেশতের গ্যারান্টি আমরা আপনাদের দিতে পারব না; বেহেশত পেতে চাইলে ইবাদত করতে হবে মহান আল্লাহর। আমরা গ্যারান্টি দিতে চাই উন্নয়নের; সেই উন্নয়ন আপনারা আগামী সাড়ে চার বছরে দেখতে পাবেন।
আশা করা হচ্ছে, বড়দরগাহ থেকে ভেন্ডাবাড়ী সড়কের শক্তিশালীকরণ ও মেরামত কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের মানুষ আরও সহজে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। পাশাপাশি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।