স্থানীয় নির্বাচনে জিতে আসতে পারেন এমন প্রার্থীকে সমর্থনের নির্দেশ তারেক রহমানের
ছবিঃ সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরীর একটি হোটেলে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভায় দলের নেতাদের একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেন—এমন যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেন।
তাঁর অন্য নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতাকর্মীদের ভূমিকা রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সহযোগিতা করা এবং ঐক্যবদ্ধ থাকা। সভায় উপস্থিত বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সভাটি সঞ্চালনা করেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, আর সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এতে অংশ নেন; উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও। নগরীর জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তারেক রহমান এ সভায় যোগ দেন, আর সভাটি শেষ হয় রাত ১১টার দিকে।
নাজিমুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ফ্যাসিবাদি আমলের মতো হবে না; এ নির্বাচনে সরকার বা দল কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। তাই স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য এবং বিজয়ী হয়ে আসতে পারেন—এমন প্রার্থীকেই সমর্থন দিতে হবে।
সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার কথাও বলা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার সময় যে ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পেয়েছে, তার উন্নতি ঘটানো একা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সম্ভব নয়; এ কারণেই এলাকার মানুষজনকে সঙ্গে নিয়ে নেতাকর্মীদের বাহিনীটিকে সহযোগিতা করতে হবে। একইসঙ্গে দলের কোনো নেতাকর্মী যেন অন্যায় বা অপরাধের মধ্যে না জড়ান, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন দলীয় চেয়ারম্যান।
নাজিমুর রহমান আরও জানান, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনাও দিয়েছেন তারেক রহমান। যে কোনো সময় রাজাকার, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার এক হয়ে যেতে পারে উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের সবসময় সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলীয় প্রধান।
প্রেক্ষাপট
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পাঁচ ধাপে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে; প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ৮১৫টি ইউনিয়নে ভোট হবে এবং দেশের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৩০০টিকে প্রস্তুত ধরা হয়েছে — বিডিনিউজ২৪ ডটকম ১২ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরে কমিশনের সম্ভাব্য পরিকল্পনায় সাত ধাপে ২০২৬ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ভোট শুরুর কথা ছিল — দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ১৭ সেপ্টেম্বর এ তথ্য দিয়েছিল। সূত্রভেদে তথ্যের পার্থক্য রয়েছে; অক্টোবরের সিদ্ধান্তটিই সর্বশেষ।
গত জুলাইয়ে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমান তফসিল ঘোষণার আগেই প্রতিটি এলাকায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন; স্থানীয় ভোট দলীয় প্রতীক ছাড়া হতে পারে বলে একাধিক দাবিদার তৈরির ঝুঁকির কথাও সেখানে আলোচিত হয় — দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ১৯ জুলাই এ তথ্য জানায়।
এক নজরে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি; ঘোষিত ২৯৭টি ফলাফলের মধ্যে বিএনপি পায় ২০৯টি এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন, আর ভোট পড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ — বিডিনিউজ২৪ ডটকম ১৩ ফেব্রুয়ারি এ তথ্য জানিয়েছে।
এর পাঁচ দিন পর, ১৭ ফেব্রুয়ারি, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান; এর আগে শেখ হাসিনার পতনের পর ১৮ মাস দেশ পরিচালনা করেছিল একটি অন্তর্বর্তী সরকার — আল জাজিরা ১৭ ফেব্রুয়ারি এ তথ্য জানিয়েছে।