ছবিঃ সংগৃহীত
আইসিসির ওয়ানডে বোলিং তালিকায় দারুণ উন্নতি করেছেন বাংলাদেশের দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। বাঁহাতি পেসার শরিফুল দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ১১ নম্বরে, আর ৯ ধাপ উন্নতি করে ১২ নম্বরে চলে এসেছেন তাসকিন। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে এই লম্বা লাফ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) হালনাগাদকৃত র্যাঙ্কিংয়ে এই দুই পেসারের অগ্রগতি হয়েছে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সেরা দশে আছেন কেবল মেহেদী হাসান মিরাজ, তালিকায় তাঁর অবস্থান ৯ নম্বরে। বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন তিনি। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে দুই ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ২০তম স্থানে এসেছেন হারিস রউফ।
এদিকে বোলারদের তালিকায় শীর্ষে নিজের জায়গা আরও শক্ত করেছেন রশিদ খান। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দারুণ বোলিংয়ের পুরস্কার পেয়েছেন তিনি; ৮ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার, তাতেই তাঁর রেটিং পয়েন্ট বেড়ে এখন ৭৪২।
ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টিতেও বোলারদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন রশিদ। ওয়ানডেতে ২ নম্বরে আছেন পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদ, তাঁর সঙ্গে রশিদের পয়েন্টের পার্থক্য এখন ৮০। তিন নম্বরে আছেন সাউথ আফ্রিকার স্পিনার কেশভ মহারাজ। অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও দুই ধাপ উন্নতি করে ৬ নম্বরে উঠে এসেছেন রশিদ।
ব্যাটারদের তালিকায় উন্নতি করেছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১১০ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলা সেদিকউল্লাহ অতল; তাঁর সেঞ্চুরিতে ভর করেই জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল হারের স্বাদ দিয়েছে আফগানিস্তান। সেদিকউল্লাহ ১২ ধাপ এগিয়ে এখন ২০ নম্বরে। পাকিস্তানের ব্যাটারদের মধ্যে ১ ধাপ এগিয়ে ১২ নম্বরে উঠেছেন সালমান আলী আঘা।
ইংল্যান্ডের ব্যাটার বেন ডাকেট দুই ধাপ এগিয়ে আছেন ১৩ নম্বরে। টি-টোয়েন্টিতে দুই ধাপ এগিয়ে সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটার শাই হোপ, তাঁর বর্তমান অবস্থান ৯ নম্বরে। ৬ ধাপ এগিয়ে ১৮ নম্বরে উঠেছেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটার শেরফান রাদারফোর্ডও। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ১০ ধাপ এগিয়ে ২৬ নম্বরে আছেন উইন্ডিজের গুড়াকেশ মোতি।
প্রেক্ষাপট
আইসিসির গত ৮ জুলাইয়ের হালনাগাদে ওয়ানডে বোলিং তালিকায় মেহেদী হাসান মিরাজ ছিলেন ৯ নম্বরে, শরিফুল ইসলাম তিন ধাপ পিছিয়ে ২১ নম্বরে এবং তাসকিন আহমেদ অপরিবর্তিত ২৯ নম্বরে; ওই হালনাগাদে নাহিদ রানা ১৭ ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ১২ নম্বরে ওঠেন — ঢাকা ট্রিবিউন ৯ জুলাই এ তথ্য জানিয়েছে।
তারও আগে ১৭ জুনের হালনাগাদে শরিফুল ১০ ধাপ এগিয়ে ১৮ নম্বরে, মুস্তাফিজুর রহমান ১২ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ২৫ নম্বরে এবং তাসকিন পাঁচ ধাপ এগিয়ে ২৭ নম্বরে উঠেছিলেন — আইসিসি ১৭ জুন এ তথ্য জানিয়েছে।
সংখ্যার হিসাব
আইসিসির ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবরের মিডিয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই সময় রশিদ খান ৭১০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ওয়ানডে বোলিং তালিকার শীর্ষে ফিরেছিলেন এবং ৩০ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন কেশভ মহারাজ।
এক নজরে
আইসিসির খেলোয়াড় র্যাঙ্কিংয়ে ০ থেকে ১০০০ পয়েন্টের স্কেলে অবস্থান নির্ধারিত হয়; সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অতীত রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেলে পয়েন্ট বাড়ে, না পারলে কমে। প্রতিটি পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করে একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদম, যেখানে ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং কোনো মানবিক বা ব্যক্তিনির্ভর মূল্যায়ন থাকে না — আইসিসির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।