ছবিঃ সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বাঁচা-মরার এই ম্যাচের একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছে দলটি।
প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ কঠিন। দ্বিতীয় পর্বে খেলতে হলে আজকের ম্যাচে জিততেই হবে টাইগারদের।
বাংলাদেশ সময় বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় শারজায় শুরু হচ্ছে ম্যাচটি।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশ দলে ঢুকেছেন পারভেজ হোসেন ইমন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও আলিস আল ইসলাম। বাদ পড়েছেন রিশাদ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও নুরুল হাসান সোহান।
আফগানিস্তানের একাদশেও এসেছে দু’টি পরিবর্তন। ফজলহক ফারুকী ও জিয়া উর রহমান বাদ পড়েছেন, ঢুকেছেন ইয়ামি আহমদজাই ও বিলাল সামি।
এ ম্যাচে জয় পেলে ফাইনালে ওঠার আশা টিকে থাকবে বাংলাদেশের। তবে সে জন্য নেট রান রেটের কঠিন হিসাবও সামলাতে হবে তাদের।
জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে আফগানরা। নেট রান রেটে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের কাছে হারলেও তাদের ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারলে নেট রান রেটে জিম্বাবুয়েকে টপকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।
এক ম্যাচে জয় পেয়ে +৩.১৬০ নেট রান রেট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এখন আফগানিস্তান। এক জয় ও এক হারে -০.৫৯০ নেট রান রেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে জিম্বাবুয়ে। আর প্রথম ম্যাচে হারের পর -১.৯৮০ নেট রান রেট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ।
আগে ব্যাটিং করায় বাংলাদেশের অন্তত ৪১ রানের জয় পেতে হবে।
ওয়ানডেতে দুই দল এখন পর্যন্ত ২২ বার মুখোমুখি হয়েছে, উভয় দলই জিতেছে ১১টি করে ম্যাচ। তবে সর্বশেষ ছয় লড়াইয়ের পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে আফগানিস্তান এবং এই পাঁচটি জয়ই এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ও আবুধাবিতে।
বাংলাদেশ একাদশ
তাওহীদ হৃদয়, তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, মেহেদী হাসান মিরাজ, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান।
প্রেক্ষাপট
উইজডেনের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে এ ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ শুরু হয় ১৭ অক্টোবর; প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে একবার খেলে এবং শীর্ষ দুই দল ২৩ অক্টোবর ফাইনালে মুখোমুখি হবে। ওই প্রতিবেদনে সিরিজের সব ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কথা বলা হয়েছে; সূত্রভেদে ভেন্যুর তথ্যে পার্থক্য রয়েছে।
প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ২৭১/৮ (ক্রেইগ আরভিন ৯৩, ব্রেন্ডন টেলর ৮১) সংগ্রহের জবাবে বাংলাদেশ ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে গুটিয়ে যায়; ব্র্যাড ইভান্স নেন ৪/৪৫, বাংলাদেশের পক্ষে তানজিদ হাসান করেন সর্বোচ্চ ৪৬ রান এবং লিটন দাস চোটে থাকায় নেতৃত্ব দেন তাওহীদ হৃদয় — প্রথম আলো ইংরেজি সংস্করণ ১৮ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে।
দ্বিতীয় ম্যাচে ১৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের ২৯৪ রানের জবাবে জিম্বাবুয়ে ৩৮.৪ ওভারে ১৩৬ রানে অলআউট হয়; সেদিকউল্লাহ অতলের ১১০ বলে ১০২ রানের ইনিংসটি ছিল তাঁর তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি — জিম্বাবুয়ের দ্য হেরাল্ড ২০ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে।
সংখ্যার হিসাব
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রেকর্ডও স্বস্তিদায়ক নয়। ২০২৫ সালের ২ থেকে ১৪ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে আফগানিস্তান ৩-০ ব্যবধানে বাংলাদেশকে হারায়—প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটে, দ্বিতীয়টিতে ৮১ রানে এবং তৃতীয়টিতে ২০০ রানে — উইকিপিডিয়ার ওই সিরিজসংক্রান্ত পৃষ্ঠা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।