পূজার পাস বিক্রির মামলা: ইডির দপ্তর থেকে বেরোতেই গ্রেফতার ইন্দ্রনীল সেন
ছবিঃ সংগৃহীত
কলকাতার সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) দপ্তরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বের হওয়ার পরপরই সংগীতশিল্পী ও সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতার বউবাজার থানার পুলিশ। দুর্গাপূজার পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তাঁকে ধরা হয়।
গ্রেফতারের পর তাঁকে নেওয়া হয় পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে। পুলিশের দাবি, বারবার নোটিশ পাঠানোর পরও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন না।
এই সময়-এর প্রতিবেদন বলছে, ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে তারা দুর্গাপূজার পাস বিক্রি করেছে। বউবাজার থানায় হওয়া মামলার তদন্তে পুলিশ ও ইডি জানিয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুর্গোৎসবের পাস বিক্রি করে প্রায় ৩০ কোটি টাকার লেনদেন করেছে সংস্থাটি। এর বড় অংশই জমা পড়েছিল ইন্দ্রনীল ও তাঁর পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
শুধু ২০২৩-২৪ সালেই প্ল্যাটিনাম ও গোল্ডসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১ লাখের বেশি পাস বিক্রি হয়, যার দাম উঠেছিল সর্বোচ্চ ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত। সেই অর্থ থেকে ক্লাবগুলোকে কমিশন দেওয়া হতো। মন্ত্রী থাকার সময় ঘনিষ্ঠদের ৮৫ কোটি টাকার সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দিয়ে সেই টাকা আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টে সরানোর অভিযোগও উঠে এসেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
লালবাজার সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে গোয়েন্দারা ইন্দ্রনীলকে নজরে রাখছিলেন। কিন্তু বারবার অবস্থান বদলে তিনি নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছিলেন। বুধবার তিনি ইডির মুখোমুখি হতে সিজিও কমপ্লেক্সে আসছেন—এ খবর পেয়ে দুপুরেই সাদা পোশাকের পুলিশ ও বিধাননগর নর্থ থানার একটি দল সেখানে পৌঁছে যায়।
বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে তিনি বাইরে আসতেই সরাসরি পুলিশের গাড়িতে তুলে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে এটি কেবল শুরু; প্রকৃত দোষীদের সবাইকেই জেলে যেতে হবে।
সাবেক মন্ত্রীর গ্রেফতারের পর এদিন অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আজ আনন্দের দিন। ৩০ কোটির লেনদেন তো কিছুই নয়, এটা হিমশৈলের চূড়ামাত্র।’
সূত্র: এই সময়
প্রেক্ষাপট
ইটিভি ভারতের ৯ জুন ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেঘদূত ফাউন্ডেশনের পক্ষে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় ও সগুণা মুখোপাধ্যায় বউবাজার থানায় অভিযোগ দেন যে ইন্দ্রনীল সেন ও মধুছন্দা সেন ইউনেসকোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপূজার অবৈধ ভিআইপি টিকিট বিক্রি করেছেন।
অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের (পিএমএলএ) মামলায় ইডি কলকাতা ও সিঙ্গুরের ১৫টি স্থানে তল্লাশি চালায়, যার মধ্যে ইন্দ্রনীল সেনের বাসভবন ও সিঙ্গুরের খামারবাড়িও ছিল — দ্য উইক ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ খবর দেয়।
বার অ্যান্ড বেঞ্চের ১৯ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
সংখ্যার হিসাব
দ্য উইকের ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২৪টি পূজামণ্ডপের প্রিভিউ শোর টিকিট জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪,০০০ রুপিতে বিক্রি করে প্রায় ২০০ জনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়।
এক নজরে
দ্য উইকের হিসাবে, ২০২১ সালে দুর্গাপূজা ইউনেসকোর মানবতার অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: ইটিভি ভারত, ৯ জুন ২০২৬; দ্য উইক, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬; বার অ্যান্ড বেঞ্চ, ১৯ অক্টোবর ২০২৬