
ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র প্রশ্নে ৬০ বছরের মার্কিন নীরবতায় বদলের চাপ
ছবিঃ সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আর পরমাণু সক্ষমতা অর্জনে সৌদি আরবের উদ্যোগ—এসবের জেরে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার নীতি বদলাতে চাপ বাড়ছে। ছয় দশক ধরে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে চুপ থেকেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুই দেশই।
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক আইনপ্রণেতার মত, ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র প্রশ্নে ওয়াশিংটনের ধোঁয়াশাপূর্ণ অবস্থান এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
১৯৬০-এর দশকে নেগেভ মরুভূমিতে ডিমোনা পারমাণবিক স্থাপনা গড়ার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির যাত্রা শুরু। তখন ইসরায়েলি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আদি কোহেন মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে স্থাপনাটির পরিচয় দিয়েছিলেন ‘বস্ত্র কারখানা’ হিসেবে। পরে এটিই মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের কথিত পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার তৈরির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।
ইসরায়েল অবশ্য কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা মানেনি, যুক্তরাষ্ট্রও প্রকাশ্যে এ নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেছে। এই অবস্থানের নাম ‘পারমাণবিক অস্পষ্টতা’। নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের হিসাবে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে প্রায় ৯০টি।
কংগ্রেসের সাম্প্রতিক এক শুনানিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র আছে বলে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই মনে করে। তবে দেশটি কখনো তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি, আর যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করে না।
এ নীতির সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হোয়াকিন কাস্ত্রো। তাঁর মতে, ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীরবতা এখন বেপরোয়া ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
কাস্ত্রো মনে করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যুদ্ধে নামার সময় দেশটি কোন সীমারেখা পেরোলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন উদ্বিগ্ন, তখন পরমাণু সক্ষমতা অর্জনে আগ্রহ দেখাচ্ছে সৌদি আরবও। দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানালে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো পারমাণবিক সক্ষমতা পেতে চেষ্টা জোরদার করলে অঞ্চলটিতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। এ কারণে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বহু বছরের নীরবতা ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। সূত্র: সিএনএন
প্রেক্ষাপট
সিপ্রির হিসাবে ২০২৪ সালে ইসরায়েলের সামরিক মজুতে ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল, যা ২০২৩ সালের সমান; ডিমোনার প্লুটোনিয়াম উৎপাদন চুল্লির স্থাপনাও দেশটি উন্নত করছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ — জুইশ প্রেস ২০২৪ সালের ১৮ জুন এ তথ্য জানিয়েছে।
সংখ্যার হিসাব
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) ২০২৬ সালের ইয়ারবুক অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বে আনুমানিক ১২ হাজার ১৮৭টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল, যার প্রায় ৯ হাজার ৭৪৫টি সম্ভাব্য ব্যবহারের জন্য সামরিক মজুতে রাখা — ব্রাসেলস সিগন্যাল জুন ২০২৬-এ এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রেক্ষাপট সূত্র: জুইশ প্রেস, ১৮ জুন ২০২৪; ব্রাসেলস সিগন্যাল, জুন ২০২৬
