
সন্তান আল্লাহর আমানত: প্রতিপালনে যেসব দায়িত্ব মা-বাবার
ছবিঃ সংগৃহীত
আমাদের অস্তিত্বের প্রতিটি কণা আর জীবনের প্রতিটি অংশই আল্লাহর অশেষ দয়া। তাঁর অগণিত নেয়ামতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও অমূল্য একটি হলো সন্তানসন্ততি। সন্তান পাওয়ার আকুতি কত গভীর, তা বোঝা যায় নিঃসন্তান দম্পতি বা সন্তানহারা মা-বাবাকে জিজ্ঞেস করলেই। তবে এ উপহার শুধু আনন্দের নয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান আমানতও।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি পরীক্ষাস্বরূপ দেওয়া হয়েছে। আর এর বিনিময়ে আল্লাহর নিকট বিরাট প্রতিদান রয়েছে।’ (সুরা তাগাবুন: ১৫)
সন্তানকে সঠিক ও সৎপথে বড় করে তোলা প্রত্যেক মা-বাবার নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। সন্তান গর্ভে আসার পর থেকেই মা-বাবাকে সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে, আর সন্তানের কল্যাণ ও হিদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। নবী-রাসুলেরাও নিজেদের সন্তানদের জন্য দোয়া করেছেন—পবিত্র কোরআনে এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
সুন্দর নাম রাখা: অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নিয়ে শিশুর জন্য অর্থপূর্ণ ও সুন্দর একটি নাম রাখা, যাতে নামের কোনো কুপ্রভাব তার ওপর না পড়ে।
আকিকা করা: সন্তানের কল্যাণ ও বিপদাপদ দূর করার জন্য জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা। হাদিসে এসেছে, ‘প্রতিটি শিশু তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধকস্বরূপ থাকে। সুতরাং জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু জবাই করো এবং তার নাম রাখো।’ (জামে তিরমিজি: ১৫২২)
বুকের দুধ খাওয়ানো: ইসলামি বিধান অনুযায়ী শিশুকে পূর্ণ দুই বছর মায়ের দুধ পান করাতে হবে; তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।
শিশুর মানসিক বিকাশে মা-বাবার ভালোবাসা ও সঙ্গের কোনো বিকল্প নেই। যত ব্যস্ততাই থাকুক, সন্তানকে সময় দেওয়া, আদর করা এবং তার সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। শিশুকাল থেকেই তাদের মনে দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিকতার বীজ বুনে দিতে হবে। মা-বাবা সচেতনভাবে সন্তানকে সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এই সন্তানেরাই পরকালে মা-বাবার নাজাতের মাধ্যম ও সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল হবে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
