
সৌদিতে মারা যাওয়া নান্দাইলের সৌরভের মরদেহ বিমানবন্দরে গ্রহণ করলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত
সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ময়মনসিংহের নান্দাইলের প্রবাসী মো. মৃদুল হাসান সৌরভের মরদেহ দেশে ফিরেছে। শুক্রবার রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহটি পৌঁছালে তা গ্রহণ করতে ছুটে যান তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী।
ছেলের মরদেহ নিতে বিমানবন্দরে এসেছিলেন সৌরভের বাবা সোহরাব উদ্দীন। সেখানে তখন হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
বিমানবন্দরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি প্রবাসী শ্রমিকেরা। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন অকালমৃত্যু খুবই হৃদয়বিদারক। প্রবাসী ভাই ও তাঁদের পরিবারের পাশে সরকার সব সময় আছে বলে জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে যেকোনো প্রয়োজনে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাসও দেন প্রতিমন্ত্রী।
সৌরভ নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সোহরাব উদ্দীনের একমাত্র ছেলে। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ১৬ মাস আগে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। প্রবাসে থাকার একপর্যায়ে জন্ডিসে আক্রান্ত হন। পরে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলার সময় গত ১০ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।
মরদেহ পৌঁছানোর পরপরই তাৎক্ষণিক সরকারি সহায়তা হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিবারটির হাতে ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক তুলে দেয়। অল্প বয়সী এই প্রবাসীর হঠাৎ মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে।
সংখ্যার হিসাব
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রেকর্ড ৪ হাজার ৮১৩ জন প্রবাসীকর্মীর মরদেহ দেশে আসে; ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫৫২। একই হিসাবে ১৯৯৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৭৬৯ জন প্রবাসীকর্মীর মরদেহ দেশে এসেছে — দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি এ তথ্য জানিয়েছে।
এক নজরে
দাফন ও পরিবহনের খরচ বাবদ প্রতিটি মরদেহের জন্য ৩৫ হাজার টাকা দেয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড — দ্য ডেইলি স্টার বাংলার একই প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। জাতীয় সংসদে আরিফুল হক চৌধুরীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বহির্গমন ছাড়পত্র বা বোর্ডের সদস্যপদধারী প্রবাসীর পরিবার দুই মাসের মধ্যে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পায় — বাসস ১৪ জুলাই এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রেক্ষাপট সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ২৪ জানুয়ারি ২০২৫; বাসস, ১৪ জুলাই ২০২৬
