আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মায়ের কাছ থেকে কিশোরীকে অপহরণ, আসামি গ্রেফতার
ছবিঃ সংগৃহীত
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-১১) সিপিসি-৩ চৌকস টিম অভিযান চালিয়ে এক কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেফতার করেছে আসামি আবদুর রহিম রনিকে (২৩)। নোয়াখালীর আদালত প্রাঙ্গণে মায়ের কাছ থেকে ওই কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
এসআরবি-১১-এর সিপিসি-৩-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার মিথুন কুমার কুণ্ডু মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গোপন সংবাদ পেয়ে সোমবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার পাশে কলোনি এলাকায় যায় এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এবং এসআরবি-৭, সিপিএসসি, চট্টগ্রামের যৌথ আভিযানিক দল। সেখানে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তির ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় আসামি আবুল হোসেন রনিকে (২৩)।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের জগদানন্দ গ্রামের বাছেদের বাড়ির সালাউদ্দিন হলেন গ্রেফতার রনির বাবা।
মিথুন কুমার কুণ্ডু প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানান, স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে মামলার ভিকটিম। স্কুলে যাওয়ার পথে অন্য আসামিদের সহায়তা নিয়ে তাকে অপহরণ করেন আসামি আবুল হোসেন রনি এবং অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, নোয়াখালীতে গত ১৬ জুলাই একটি মামলা করেন বাদী। পরে ভিকটিম জান্নাতুল মাওয়া মুক্তাকে (১৩) উদ্ধার করতে জেলা গোয়েন্দা শাখা, নোয়াখালীকে আদেশ দেন আদালত। পর্দার আড়ালে থেকে আসামিরা ভিকটিমকে আদালতে হাজির করেন; আদালত তাকে পাঠিয়ে দেন চট্টগ্রামের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে।
পরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভিকটিমকে বাদীর জিম্মায় দেন আদালত। জিম্মায় পাওয়া ভিকটিমকে নিয়ে বাদী আদালত থেকে সিএনজিতে উঠছিলেন; সে সময় আসামি রনিসহ অন্য আসামিরা তাঁদের ঘিরে ধরে ভিকটিমকে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। বাদী বাধা দিলে আসামিরা কিল-ঘুষি মেরে তাঁকে রাস্তায় ফেলে দেন। অভিযোগে বলা হয়, ভিকটিমকে হেফাজতে নিতে বাদী চেষ্টা করলে আসামি তাঁর গলা টিপে ধরে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা চালান।
একপর্যায়ে ভিকটিমকে অপহরণ করে সিএনজি ও মোটরসাইকেলযোগে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান আসামিরা। পরে সুধারাম থানায় মামলা করেন ভিকটিমের মা।
মামলা রুজুর পর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী; লক্ষ্য ছিল ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধার। এরপর যৌথ আভিযানিক দলের হাতে আসামি গ্রেফতার হন চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার পাশের কলোনি এলাকা থেকে।