ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো, চট্টগ্রামে বললেন জামায়াত আমির
ছবিঃ সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরের জিসি কনভেনশন সেন্টারে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সাথি ও সদস্যদের সম্মেলন শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক হোসেন প্রতিমন্ত্রীর পদ ছেড়েছেন।
মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা-ই করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কারও দিকে অস্ত্র তাক করলে তাঁর উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।
কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয় না বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মাদক নির্মূলে দলের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর সাথি-সদস্যদের আমৃত্যু সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা হলেও তা এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অতীতে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জুলুম-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানান শফিকুর রহমান। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জান্নাতের টিকিট বিক্রির অভিযোগ নাকচ করে জামায়াত আমির জানান, তাঁরা মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেন।
সম্মেলনে অংশ নেন দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার নেতা-কর্মী। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন।
প্রেক্ষাপট
জামায়াত আমির যে পদত্যাগের কথা বলেছেন, তা হয়েছে গত সোমবার। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ১৯ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।
একই প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৬ ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য জাতীয় সমস্যায় মনোযোগ দিতেই তিনি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন; অভিযান নিয়ে বিতর্কের পর তার আগের দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা ছাড়তে বলেছিলেন।
অস্ত্রের প্রসঙ্গটি এসেছে ১৭ অক্টোবরের একটি অভিযান থেকে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ওই দিন ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক পিস্তল বের করেন; ভিডিওতে দেখা যায় এক হাতে হ্যান্ডমাইকের মুখ ও অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে তিনি একদল মানুষকে ধাওয়া করছেন। নিরাপত্তার প্রয়োজনে যতক্ষণ দরকার ততক্ষণই অস্ত্রটি রেখেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন এবং কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করলেও নিজের কোনো ভুল হয়নি বলে জানান।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, আজকের পত্রিকা