ছবিঃ সংগৃহীত
চলতি বছর সৌদি আরবের বক্স অফিসে সৌদি চলচ্চিত্রগুলোর আয় ১০০ মিলিয়ন রিয়াল পেরিয়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর এ মাইলফলক স্পর্শ করল দেশটির স্থানীয় চলচ্চিত্র। সৌদি আরবে স্থানীয় ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য ও জনপ্রিয়তার ধারা অব্যাহত আছে। সৌদি ফিল্ম কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বক্স অফিসের মোট আয়ের প্রায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ জোগান দিয়েছে সৌদি চলচ্চিত্র।
প্রেক্ষাগৃহে সৌদি চলচ্চিত্রের উপস্থিতি যে ক্রমেই বাড়ছে এবং স্থানীয় গল্প ও নির্মাণে দর্শকদের যে আগ্রহ আছে, এ পরিসংখ্যান তারই ইঙ্গিত বহন করে। ফিল্ম কমিশনের সর্বশেষ সাপ্তাহিক হিসাব বলছে, ১৩ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে সৌদি আরবের বক্স অফিস থেকে আয় এসেছে ১৬ মিলিয়ন রিয়াল। ওই সময়ে ৫৯টি চলচ্চিত্রের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ২০০টির বেশি। দেশটির প্রেক্ষাগৃহে এখন চলছে তিনটি সৌদি চলচ্চিত্র। এগুলো হলো অ্যাকশনধর্মী ‘৭ ডগস’, অ্যাকশন-কমেডি ‘অ্যাক্স সির’ এবং অ্যানিমেটেড ফিচার ‘আজ্জাম: দ্য বাটারফ্লাই ইফেক্ট’।
গত বছরের ধারাবাহিকতাই ধরে রেখেছে চলতি বছরের এ সাফল্য। ২০২৫ সালের বক্স অফিস নিয়ে সৌদি ফিল্ম কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে বছর ১১টি সৌদি চলচ্চিত্র টিকিট বিক্রি করে ২৮ লাখ (২.৮ মিলিয়ন), আর তা থেকে আয় আসে ১২২.৬ মিলিয়ন রিয়াল।
দেশটিতে ২০২৫ সালে সব মিলিয়ে ৫৩৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছিল; এর মধ্যে সৌদি চলচ্চিত্র ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। অথচ বক্স অফিসের মোট আয়ের প্রায় ১৩ শতাংশই জোগান দেয় স্থানীয় ছবি। সে বছর সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০টি চলচ্চিত্রের তালিকায় তিনটি সৌদি ছবি স্থান করে নেয়—‘আল-জারফা’, ‘শাবাব আল-বোম্ব ২’ ও ‘হোবাল’।
গত এক দশকে দেশটির সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতে যে পরিবর্তন এসেছে, সৌদি চলচ্চিত্রশিল্পের এ অগ্রগতি তারই একটি অংশ। ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ চালু হয় ২০১৬ সালে; এর মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনায় আনা হয় সংস্কৃতি ও বিনোদনকে। বিনোদন খাতের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সে বছরই প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটি’।
সৌদি আরবে বাণিজ্যিক সিনেমা হল ফের চালু হয় ২০১৮ সালের এপ্রিলে, কয়েক দশকের বিরতির পর। পরবর্তী সময়ে নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ, যার লক্ষ্য ছিল চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশ, স্থানীয় নির্মাতাদের সহায়তা দেওয়া এবং এ খাতের সামগ্রিক অবকাঠামো মজবুত করা। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘ফিল্ম কমিশন’ গঠন করা হয়, যা ১১টি বিশেষায়িত সাংস্কৃতিক কমিশনের একটি।
সরকারি সহায়তার পরিসর আরও বিস্তৃত হয় ২০২১ সালে, ‘কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এরপর ২০২৩ সালে সংস্থাটি ‘ফিল্ম সেক্টর ফাইন্যান্সিং প্রোগ্রাম’ চালু করে, যার বাজেট ৮৭৯ মিলিয়ন রিয়াল। এর উদ্দেশ্য প্রযোজনা, পরিবেশনা ও চলচ্চিত্র অবকাঠামোর উন্নয়ন, পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।