তৃতীয় রণতরি আর হেগসেথের সফর: ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কা দেখছেন বিশ্লেষক
ছবিঃ সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইসরায়েল সফর এবং অঞ্চলটির কিছু কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার খবরে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা দানা বেঁধেছে।
একজন বিশ্লেষকের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনাপ্রবাহ থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার পথে না গিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি। তাঁর মূল্যায়ন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আরেক দফা সামরিক অভিযানের দিকে এগোচ্ছে।
দোহা থেকে আল-জাজিরাকে এলমাসরি বলেন, “অনেক সংকেত ও শক্তি প্রদর্শন দেখা যাচ্ছে, যা থেকে মনে হচ্ছে, আমরা আরেক দফা লড়াইয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”
নিজের যুক্তির পক্ষে তিনি কয়েকটি ঘটনার কথা তোলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করেছেন। প্রায় একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন। অঞ্চলটির কয়েকটি কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার খবরও আসছে।
এলমাসরির ভাষায়, “এসব ঘটনাই ইঙ্গিত দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শিগগিরই—হয়তো খুব শিগগিরই—ইরানের ওপর আরেক দফা হামলার পরিকল্পনা করছে।”
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য তিনি হাজির করেননি। তাঁর বক্তব্য মূলত সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ভিত্তিতে দাঁড় করানো একটি মূল্যায়ন।
আগের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে সংঘাত
যুদ্ধ আবার শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়েও বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক হতে পারে বলে মনে করেন এলমাসরি। তিনি বলেন, “আশঙ্কার একটি দিক হলো, এবারের লড়াই আগের দফার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক ও ভয়াবহ হতে পারে।”
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়া এবং ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কড়া অবস্থান তাঁর এ আশঙ্কার পেছনে কাজ করছে। নতুন হামলা হলে পাল্টা আক্রমণ, আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার এবং সামরিক স্থাপনাগুলো ঘিরে উত্তেজনা আরও চড়তে পারে।
শান্তি আলোচনা, নাকি সামরিক প্রস্তুতি?
ইরানকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানে হামলার সম্ভাবনার কথা বলেছেন, আবার তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগও খোলা রেখেছেন।
এলমাসরির মতে, এমন অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েন এবং কিছু স্থাপনা থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার খবর নতুন হামলার আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।
অবশ্য সামরিক প্রস্তুতি বা নিরাপত্তার কারণে কর্মী সরিয়ে নেওয়াকেই আসন্ন হামলার চূড়ান্ত প্রমাণ বলা যায় না। ইরানে নতুন হামলার সময়সূচি কিংবা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কথা এখানে উল্লেখ নেই।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সামরিক তৎপরতা আর কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা ইরান ঘিরে নতুন সংঘাতের শঙ্কা বাড়াচ্ছে। আরেক দফা যুদ্ধ বাধলে তার প্রভাব কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমিত থাকবে, নাকি গোটা অঞ্চলে ছড়াবে—সে প্রশ্নেও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
প্রেক্ষাপট
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন অঘোষিত সফরে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরান নিয়ে আলোচনা করেন পিট হেগসেথ; সফর নিয়ে পেন্টাগন প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরের যুদ্ধ শুরু হয়।
রয়টার্স আরও জানায়, নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা করবেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প; আর ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার চেষ্টা করছেন না বলে এ মাসে দেশটির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: রয়টার্স (জিভিওয়্যার), ২০ অক্টোবর ২০২৬