২৫ অক্টোবর ক্রিকেট, ২৬ অক্টোবর ফুটবল দিয়ে শুরু এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ
ছবিঃ সংগৃহীত
ক্রিকেট ও ফুটবল—দুই খেলার টুর্নামেন্ট প্রথমবারের মতো একসঙ্গে আয়োজন করতে যাচ্ছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি)। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া তরুণদের মাঠের প্রতি আকৃষ্ট করা এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিযোগিতার নতুন আবহ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
প্রতিযোগিতাটির নাম রাখা হয়েছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ’। এর আয়োজনে থাকছে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া অবকাঠামো ও করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতা, সঙ্গে রয়েছে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা। সংশ্লিষ্টদের আশা, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে এ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নতুন দিগন্তের দুয়ার খুলে দেবে।
টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো হবে চলতি অক্টোবর মাসে, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির আন্তর্জাতিক মানের দুই ভেন্যু বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা ও আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে ২৫ অক্টোবর, ফুটবলের ২৬ অক্টোবর।
এ আসরে অংশ নেবে দেশের ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০টি করে দল। দলগুলোকে ভাগ করা হবে দুটি গ্রুপে। গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল জায়গা পাবে সেমিফাইনালে, আর সেমিফাইনালজয়ীরা মুখোমুখি হবে শিরোপার লড়াইয়ে।
ফ্লাডলাইটের আলোয় হবে সব ম্যাচ। ক্রিকেট ও ফুটবল দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য প্রাইজমানি ১০ লাখ টাকা করে, আর রানার্সআপ দল পাবে পাঁচ লাখ টাকা করে।
প্রথম এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ শেষ হবে দুটি ফাইনাল দিয়ে—ফুটবলের ফাইনাল আগামী ৩ নভেম্বর এবং ক্রিকেটের ফাইনাল ১৩ নভেম্বর।
এবিজি স্পোর্টস সিটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে গড়ে উঠেছে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে, যেখানে রয়েছে বহুমাত্রিক সুযোগ-সুবিধা। ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল, বক্সিং, স্কোয়াশ, ফুটসাল, সাঁতার, প্যাডেল টেনিস ও ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলা আয়োজনের ব্যবস্থা আছে এখানে। এই স্পোর্টস হাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শুধু দেশীয় প্রতিযোগিতা নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রীড়া আয়োজনেরও উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা এবিজি স্পোর্টস সিটির অন্যতম আকর্ষণ। ফিফার স্বীকৃতি পাওয়া এই ফুটবল ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ফুটবল প্রতিযোগিতা নিয়মিতই হচ্ছে। বসুন্ধরা কিংস ফুটবল ক্লাবের নিজস্ব হোম ভেন্যুও এটি। নিজস্ব স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কিংস অ্যারেনা শুধু বাংলাদেশে নয়, উপমহাদেশের ক্লাব ফুটবলেও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
কিংস অ্যারেনার পাশেই রয়েছে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম, যা এরই মধ্যে ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ক্রিকেট সিরিজ সম্প্রতি এ মাঠেই হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোয় নতুন সম্ভাবনার জানান দিয়েছে স্টেডিয়ামটি।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিত্ব মো. ইমরুল হাসান বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির পরিচালক। পাশাপাশি তিনি বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
কেন এই আয়োজন, সে বিষয়ে ইমরুল হাসান বলেন, দেশের খেলাধুলার উন্নয়নে বসুন্ধরা গ্রুপ বরাবরই কাজ করে যাচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে এবিজি স্পোর্টস সিটিতে নানা ধরনের খেলাধুলার ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য হলো খেলাধুলার প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ আরও বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চার পরিসর বড় করা।
টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ইমরুল হাসান বলেন, শুরুটা হচ্ছে প্রাথমিকভাবে ক্রিকেট ও ফুটবল দিয়ে, প্রথম আসরে দল থাকছে ১০টি করে। তবে আগামী ডিসেম্বর মাসে ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আরও বড় পরিসরে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ করার পরিকল্পনা আছে। তা হলে প্রতিযোগিতার ব্যাপ্তি ও পরিসর আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত হচ্ছে। তবে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে এ কারণে যে, এখানে একই উদ্যোগের আওতায় জনপ্রিয় দুই খেলা ক্রিকেট ও ফুটবলকে কেন্দ্র করে করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতায় বড় পরিসরের প্রতিযোগিতা হচ্ছে।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ফ্লাডলাইটে খেলা, আকর্ষণীয় প্রাইজমানি, আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু আর টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা এ আয়োজনকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রচলিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলোর গণ্ডি ছাড়িয়ে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ উদ্যোগে বাড়বে প্রতিভা বিকাশ, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি ও খেলাধুলায় নিয়মিত অংশ নেওয়ার সুযোগ। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্রীড়াভিত্তিক যোগাযোগ এবং সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশও আরও জোরদার হতে পারে।
সব দিক বিবেচনায়, এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপকে শুধু ক্রিকেট ও ফুটবলের একটি টুর্নামেন্ট বলা যায় না; এটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের খেলাধুলাকে আরও সংগঠিত, আকর্ষণীয় ও দর্শকনির্ভর করার একটি উদ্যোগও। ডিসেম্বরের সম্ভাব্য বৃহত্তর আয়োজনটি প্রথম আসরের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়াঙ্গনে সূচনা হতে পারে একটি নতুন ধারার।