সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রাখতেই জ্বালানিতে ভর্তুকি সমন্বয়: তথ্য উপদেষ্টা
ছবিঃ সংগৃহীত
জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত সরকার কেন নিয়েছে, তা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, দেশের সীমিত সম্পদে ভারসাম্য বজায় রাখা, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়, প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল পাচার হওয়ার ঝুঁকি সামাল দেওয়া এবং স্বাস্থ্য খাত ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো নানা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বাজেট সুষমভাবে বণ্টন—এসব নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত।
তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিং হয়। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টার ভাষ্য, ‘জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো খুবই জটিল একটি বিষয়। তবে কোনো একটি খাতকে পুরোপুরি স্বস্তিতে রাখতে রাষ্ট্র তার সব সম্পদ কেবল সেখানেই ঢেলে দিতে পারে না। কম সামর্থ্যের দেশে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তাই সীমিত সম্পদের সুষম বণ্টনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয়ের বিষয়টিও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।’
জ্বালানি তেলের দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম বেশি থাকলে সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের বড় ঝুঁকি তৈরি হয়। সেই পাচার ঠেকানো এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বোঝাতেই দামের তুলনা টানা হয়। তবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি সরকার উপলব্ধি করছে। এ কারণে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়িয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বাজেটের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ভারসাম্য আনা হচ্ছে।’
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি থেকে তৈরি হওয়া মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকার নীতিগতভাবে কোন অবস্থানে আছে, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বাড়লে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) ও টিসিবির খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি ৪১ লাখ পরিবারকে দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডের সংখ্যা আগামী অর্থবছরে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষকে সহায়তা করবে।’
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্তের জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে চাইলে উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আইএমএফের কোনো শর্তের কারণে এটি করা হচ্ছে না। জনগণের সামাজিক কল্যাণ, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে সরকার নিজস্ব অগ্রাধিকার অনুযায়ীই এসব অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’
দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সাময়িক জ্বালানি সংকট কাটলে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়বে। ফ্যামিলি কার্ড ও সরকারি সহায়তা বাজারে চাহিদা সৃষ্টি করবে, যা তরুণ ও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।’
পুলিশের ভূমিকা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল। আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে পুলিশকে জনগণের প্রকৃত সেবামুখী বাহিনী হিসেবে দেখতে চাই। মাঠপর্যায়ে পুলিশের মনোবলে কিছু ঘাটতি থাকলেও সাধারণ মানুষ পাশে দাঁড়ালে দ্রুতই স্বাভাবিক পুলিশিং ফিরে আসবে।’
ব্রিফিংকালে সেখানে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।