‘আপনার চোখকে ভালোবাসুন’: আজ বিশ্ব দৃষ্টি দিবস, শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারে সতর্কতার তাগিদ
ছবিঃ সংগৃহীত
অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর কারণ, চোখের নানা রোগ এবং চোখের যত্ন নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিই যে দিবসের মূল লক্ষ্য, সেই বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আজ। বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয় প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার।
বাংলাদেশেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বিভিন্ন কর্মসূচিতে দিবসটি পালন করা হচ্ছে, যার প্রতিপাদ্য ‘আপনার চোখকে ভালোবাসুন’।
কাছের বা দূরের দৃষ্টিজনিত সমস্যায় বিশ্বে প্রায় ২২০ কোটি মানুষ ভুগছেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যে উঠে এসেছে। তাঁদের অন্তত ১০০ কোটির ক্ষেত্রে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা ঠেকানো যেত, নয়তো দরকারি চিকিৎসা দিয়ে তা মোকাবিলা করা সম্ভব ছিল। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ঠিক সময়ে শনাক্ত করে চিকিৎসা দিলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার বড় একটি অংশই প্রতিরোধযোগ্য।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, স্মার্টফোন, ট্যাব ও কম্পিউটার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করায় শিশু-কিশোরদের চোখের স্বাস্থ্য নতুন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। স্ক্রিনে লম্বা সময় চোখ রাখলে দেখা দিতে পারে চোখে চাপ পড়া, চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা ও ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা। শিশুরা বাইরে পর্যাপ্ত সময় না কাটালে এবং দীর্ঘক্ষণ কাছের বস্তু দেখায় অভ্যস্ত হলে তাদের মায়োপিয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে শিশুর চোখের সমস্যা গোড়ার দিকে বোঝা যায় না। শিশু দূরের লেখা দেখতে না পেলে, চোখ কুঁচকে তাকালে, বই বা খাতা চোখের খুব কাছে এনে পড়লে, ঘন ঘন চোখ ঘষলে অথবা পড়তে বসে মাথাব্যথার কথা বললে অভিভাবকদের তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। দরকার হলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশ্বজুড়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ডব্লিউএইচওর তথ্যে চিহ্নিত হয়েছে সংশোধন না করা চোখের পাওয়ারের সমস্যা। যথাযথ চশমা ব্যবহার ও চিকিৎসা নিলে মায়োপিয়া, হাইপারোপিয়া, অ্যাস্টিগমাটিজম ও বয়সজনিত প্রেসবায়োপিয়ার মতো অনেক সমস্যাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
দৃষ্টিশক্তি হারানোর গুরুত্বপূর্ণ কারণের তালিকায় আরও আছে ছানি, গ্লুকোমা, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন। যাঁরা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, বিশেষত তাঁদের নিয়ম করে চোখ পরীক্ষা করানো দরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে উল্লেখ করার মতো উপসর্গ ছাড়াই দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে গ্লুকোমার মতো কিছু রোগ।
শিশুরা যেন টানা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার না করে, নিয়মিত বিরতি নেয়, পর্যাপ্ত আলোয় পড়াশোনা করে এবং দিনের আলোতে বাইরে সময় কাটায়—এমন পরামর্শ এসেছে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে। খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের উৎসাহ দেওয়ার বিষয়টিতেও তাঁরা জোর দিয়েছেন।
পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আঘাতের ঝুঁকি থেকে চোখকে বাঁচিয়ে রাখাও চোখের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা চশমা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাঁদের।
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানোকে অভ্যাসে পরিণত করা প্রয়োজন, পাশাপাশি চোখে সমস্যা দেখা দিলে নিতে হবে চিকিৎসা—বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে এ কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুর দৃষ্টিশক্তির সমস্যা তাড়াতাড়ি ধরা গেলে শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব।
তাঁদের ভাষ্য, প্রযুক্তি ব্যবহার একেবারে বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়; তবে তা সচেতনভাবে ও ভারসাম্য রেখে ব্যবহার করলে চোখের ওপর বাড়তি চাপ কমানো সম্ভব। প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমিয়ে আনার জন্য দরকার ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ।