ছবিঃ সংগৃহীত
পাকিস্তানের অস্থিতিশীল প্রদেশ বেলুচিস্তানে আইইডি বিস্ফোরণে সেনাবাহিনীর এক মেজর নিহত হয়েছেন। একই সময়ে পরিচালিত অন্য একটি অভিযানে চার ‘সন্ত্রাসী’ মারা যাওয়ার দাবি করেছে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, বেলুচিস্তানের গোয়াদর জেলার শাদি কৌর ও পাসনি এবং কালাত জেলার জাট্টাকাবাদ এলাকায় সন্ত্রাসীদের একাধিক আস্তানায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর প্রথম অভিযানে জাট্টাকাবাদ এলাকায় চার সন্ত্রাসী নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে গোয়াদর জেলার শাদি কৌর ও পাসনি এলাকায়, যেখানে ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানটির নেতৃত্বে থাকা ৩৪ বছর বয়সী মেজর ওয়াজাহাত ওয়াহিদ একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের (আইইডি) বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। তাঁর বাড়ি লাহোরে।
আইএসপিআর আরও জানায়, এলাকায় অন্য কোনো সন্ত্রাসী লুকিয়ে থাকলে তাদের নির্মূল করতে তল্লাশি অভিযান চলবে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ফেডারেল অ্যাপেক্স কমিটির অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ দেশ থেকে নির্মূল করতে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
অভিযান জোরদার
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
এর আগের দিন কোয়েটা, নুশকি ও খুজদার জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ‘ভারতের মদদপুষ্ট বলে দাবি করা’ আট সন্ত্রাসীকে হত্যার কথা জানায় নিরাপত্তা বাহিনী।
১২ ও ১৩ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে ওয়াশুক এলাকার একটি সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যার কথা জানিয়েছিল আইএসপিআর।
এর কয়েক দিন পর বেলুচিস্তান সরকারের কর্মকর্তারা জানান, প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ছয় সদস্য, আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এমন দুই নারী এবং একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের দুই কমান্ডারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গ্রেফতার প্রায় ৯০ সন্ত্রাসীকে একটি কেন্দ্রে রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি কার্যক্রম চলছে। এর আগে চলতি মাসে বেলুচিস্তানের মাস্তুং জেলায় পাঁচ সন্ত্রাসীকে হত্যার খবর প্রকাশ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা জুলাইয়ে ৮৩টি থেকে বেড়ে আগস্টে ৮৯টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ হামলা বেড়েছে ৭ শতাংশ। প্রতিবেদনটিতে বেলুচিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানভিত্তিক কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত এই পরিভাষার মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভারতের কথিত ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।
সূত্র: ডন
এক নজরে
উইকিপিডিয়ার সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ পাকিস্তান সরকারের একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, যা ২০২৪ সালের জুন মাসে শুরু হয়। ২০২৪ সালের ২২ জুন ইসলামাবাদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে জাতীয় কর্মপরিকল্পনাবিষয়ক অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে এটি অনুমোদন পায়।
একই সূত্র অনুযায়ী, উর্দু ‘আজম’ অর্থ সংকল্প এবং ‘ইস্তেহকাম’ অর্থ স্থিতিশীলতা; কর্মসূচিটির ঘোষিত লক্ষ্য চূড়ান্ত ও সর্বাত্মকভাবে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটানো, যার মধ্যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উপাদানও রাখা হয়েছে।