দত্তবাড়ি স্ট্যান্ডে পুলিশের ওপর চড়াও স্বজনেরা, গ্রেপ্তার ২৮ মামলার আসামি
ছবিঃ সংগৃহীত
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নিয়োজিত টহল পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আটক এক পকেটমারকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বগুড়ায়। এতে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এএসআই) আহত হয়েছেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ২৮ মামলার আসামি রতন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
শহরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকার দত্তবাড়ি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে।
গ্রেপ্তার রতন ব্যাপারীর (২৯) বাড়ি উত্তর চেলোপাড়া এলাকাতেই। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চুরি, মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ নানা অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা রয়েছে এবং এর মধ্যে বগুড়া সদর থানায় রয়েছে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, মঙ্গলবার দুপুরে দত্তবাড়ি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে টহল দেওয়ার সময় ৪-৫ জন ব্যক্তি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে পুলিশ রতনকে ধরে ফেললে তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন ও আশপাশের আত্মীয়স্বজন পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন; এতে আহত হন এএসআই উজ্জ্বল।
ওসি আরও বলেন, পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে রতনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। আহত এএসআই উজ্জ্বলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জেলার প্রেক্ষিত
পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া জেলায় এবার ৭৩০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছে, যা গত বছরের ৬৮১টির চেয়ে ৪৯টি বেশি — দৈনিক করতোয়া ১১ অক্টোবর ২০২৬ এ তথ্য জানিয়েছে। একই প্রতিবেদনে অবশ্য এক আয়োজকের বরাতে সংখ্যাটি ৭৩২ বলা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আনসার সদস্যদের পাশাপাশি দায়িত্বে আছেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য; মণ্ডপগুলোর মধ্যে ১০৬টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
মণ্ডপের সংখ্যায় বগুড়া সদর (মেট্রোসহ) সবার ওপরে—১২১টি; এরপর শেরপুরে ৯৪টি, গাবতলীতে ৮৪টি ও আদমদীঘিতে ৬৯টি — দৈনিক করতোয়ার ১১ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: দৈনিক করতোয়া, ১১ অক্টোবর ২০২৬