ছবিঃ সংগৃহীত
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের অভিযোগ, হাভানার ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন অন্যায়ভাবে বিচারিক পদক্ষেপের অপব্যবহার করছে। একই সঙ্গে কিউবার ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে শি জিনপিংয়ের দেশ।
নিয়মিত দৈনিক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানান, রাউল কাস্ত্রো একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় কিউবান নেতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে তিনি বেশ উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কিউবার প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই একটি ঘৃণ্য রাজনৈতিক প্রহসন হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং বেইজিং তাঁদের এই অবস্থান গভীরভাবে লক্ষ্য করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চীন সরকারের পক্ষ থেকে মাও নিং বলেন, আমরা বিচারিক ব্যবস্থার অপব্যবহার করে কিউবার ওপর চাপ প্রয়োগের কঠোর বিরোধিতা করি। কিউবা যাতে তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে এবং যেকোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে পারে, সে বিষয়ে আমাদের পূর্ণ ও দৃঢ় সমর্থন রয়েছে। কিউবার বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ ও অন্যান্য জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা অবিলম্বে সমাপ্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি কিউবার জনগণের বেঁচে থাকা এবং স্বাধীন বিকাশের মৌলিক অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
ফ্লোরিডার একটি আদালত ৯৫ বছর বয়সী এই সাবেক কিউবান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সম্প্রতি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পরই চীনের পক্ষ থেকে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া এলো। ঘটনাটি ১৯৯৬ সালের, যখন মিয়ামি-ভিত্তিক কিউবান প্রবাসী সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর পরিচালিত দুটি বেসামরিক বিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল। ওই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় চারজন নিহত হওয়ায় কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে গত সোমবার ঘোষণা দেন ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার।
২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কিউবা শাসন করেছেন রাউল কাস্ত্রো। একই ঘটনায় গত মে মাসেও মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স
প্রেক্ষাপট
১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ওপা-লকা বিমানবন্দর থেকে ওড়া ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর তিনটি নিরস্ত্র সেসনা উড়োজাহাজের দুটি আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই কিউবার মিগ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে; নিহত চারজন হলেন কার্লোস কস্তা, পাবলো মোরালেস, মারিও দে লা পেনা ও আরমান্দো আলেহান্দ্রে জুনিয়র — ডব্লিউপিটিভি ১৯ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে। ১৯৯৬ সালে কাস্ত্রো ছিলেন কিউবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী — আল জাজিরা ১৯ অক্টোবর এ তথ্য দিয়েছে।
কিউবা দাবি করেছিল উড়োজাহাজগুলো তাদের আকাশসীমায় ছিল, তবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) সিদ্ধান্ত ছিল সেগুলো আন্তর্জাতিক আকাশসীমাতেই ছিল — এনপিআর ২০ মে এ তথ্য জানায়।
মিয়ামির একটি গ্র্যান্ড জুরি গত ২৩ এপ্রিল যে ফেডারেল অভিযোগপত্র অনুমোদন করে, তা প্রকাশ্যে আনা হয় ২০ মে; সেখানে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, উড়োজাহাজ ধ্বংস এবং চারটি হত্যার অভিযোগ আনা হয় এবং লোরেনসো আলবার্তো পেরেস-পেরেসসহ পাঁচজনকে সহ-অভিযুক্ত করা হয়। এর আগে ফেডারেল সরকার পাইলটদের অভিযুক্ত করলেও ফিদেল বা রাউল কাস্ত্রোকে কখনো অভিযুক্ত করেনি — এনপিআর ২০ মে এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই ফেডারেল অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় ২১ মে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কুও চিয়াখুন বলেছিলেন, কিউবার ওপর চাপ সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক উপায়ের অপব্যবহারের দৃঢ় বিরোধিতা করে বেইজিং — রয়টার্স ২১ মে এ তথ্য জানায়।
এক নজরে
কিউবার ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের সূচনা ১৯৬২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, যেদিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ৩৪৪৭ নম্বর ঘোষণাপত্রে সই করেন। ১৯৯৬ সালে পাস হওয়া হেলমস-বার্টন আইন অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত হিসেবে ফিদেল ও রাউল কাস্ত্রোর ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়টি যুক্ত করে — জুরিস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।