আমদানি চাল-গমের মান যাচাইয়ে মার্কিন বিশেষজ্ঞ চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী, বিবেচনার আশ্বাস রাষ্ট্রদূতের
ছবিঃ সংগৃহীত
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে আমদানি করা চাল ও গমের গুণগত মান পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও দেশটির কারিগরি সহযোগিতা চান তিনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রবিবার সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। মন্ত্রী তাঁকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
আলোচনায় দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন খাদ্যমন্ত্রী। আমদানি করা চাল-গমের মান যাচাইয়ের জন্য দুই বন্দরে খাদ্য পরীক্ষায় মার্কিন বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়াগত বাস্তবতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে চাল ও গম মজুত রাখতে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শস্য সংরক্ষণের প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় মার্কিন বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও দুই পক্ষ কথা বলে।
রাষ্ট্রদূত খাদ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কারিগরি সহায়তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির প্রসঙ্গও বৈঠকে ওঠে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গম আমদানি শেষ হওয়ায় এবং এতে কোনো সমস্যা না থাকায় দুই পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা গমবাহী জাহাজ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানান আফরোজা খানম।
সাক্ষাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে মি. এরিন কোভার্ট (Mr. Erin Covert), খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে খাদ্য নিরাপত্তা, আমদানি করা শস্যের মান পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রেক্ষাপট
বৈঠকে যে গম আমদানির কথা এসেছে, তার ভিত্তি একটি সমঝোতা স্মারক। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও মার্কিন গম অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে সই হওয়া ওই স্মারকের আওতায় আগামী ৫ বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ৭ লাখ টন গম আমদানির কথা বলা হয়—দ্য ডেইলি স্টার বাংলা এ তথ্য জানিয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৫ অক্টোবর ২০২৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথমবারের মতো গম আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় চালানের গম খালাস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বন্দরের সাইলো জেটিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনও উপস্থিত ছিলেন।
সংখ্যার হিসাব
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জিটুজি চুক্তির আওতায় মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আনার পরিকল্পনা ছিল; ৩১ জানুয়ারি তৃতীয় চালানে ৫৮ হাজার ৩৫৯ টন গম চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়, আর আগের দুই চালানে আসে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ২০ জুলাই ২০২৫; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ২৫ অক্টোবর ২০২৫; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬