তুরাগে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মরদেহ, ‘মার্ডার’ বলে দাবি খালাতো বোনের
ছবিঃ সংগৃহীত
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফের মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন নদ থেকে মরদেহটি তোলা হয়।
তাহসিফের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাঁর খালাতো বোন মোশফেকা জাহান।
স্ট্যাটাসে মোশফেকা জাহানের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও শেয়ার করায় তাহসিফকে দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা সইতে হয়েছে। তাহসিফ তাঁকে জানিয়েছিলেন, অবসরে পাঠানোর পরও গোয়েন্দারা নিয়মিত তাঁর পিছু নিতেন।
মোশফেকা জাহান লিখেছেন, ‘আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে, কী দোষ ছিল তার? হাসিনার পালানো ভিডিও শেয়ার করা? যেটি তিনি নিজেও ধারণ করেননি, নাগরিক হিসেবে শেয়ার করেছেন। তার কলিগদের কেউ করেছেন। অবসরে দেওয়া হয়েছে, দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা দেওয়ার পরও তাদের শান্তি হয়নি। মেরেই ফেলতে হলো তাকে।’
তাহসিফের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, দেশপ্রেমিক হওয়ার কারণেই কি তাঁর ভাইকে এমন পরিণতি বরণ করতে হলো?
তাঁর অভিযোগ, সুস্থ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে তাঁর খালা রাজপথে ছিলেন—সে কথা তুলে ধরে মোশফেকা জানতে চেয়েছেন, তাঁর খালার অপরাধ কী ছিল।
শোক আর ক্ষোভ নিয়ে তিনি লেখেন, ‘কথা বলা আর হলো না…..!’
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করে জানান। খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির গাজীপুরের কর্মকর্তা ও ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। মরদেহের সঙ্গে থাকা আইফোন থেকে পরে তাহসিফের পরিচয় শনাক্ত হয়।