
‘আমি একটি মিথ্যা ন্যারেটিভকে ছিঁড়েছি’: আমার দেশ ছেঁড়ার ব্যাখ্যায় রাশেদ খান, অর্থায়ন নিয়েও অভিযোগ
ছবিঃ সংগৃহীত
দৈনিক ‘আমার দেশ’-এর অর্থায়ন, সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ভূমিকা আর পত্রিকাটির খবরের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে কড়া অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খান।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস ও ভিডিও বার্তা দিয়ে তিনি দাবি করেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরটি আসলে একটি ‘মিথ্যা ন্যারেটিভ’। সেই খবরের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি পত্রিকাটি ছিঁড়ে ফেলেছেন।
প্রকাশ্যে পত্রিকা ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানানোর এ আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।
স্ট্যাটাসে রাশেদ খানের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ‘আমার দেশ’-এ তাঁর বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
তিনি আরও দাবি করেন, অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছেন যে ‘আমার দেশ’ চলছে ‘আওয়ামী লীগের এক পদধারী নেতা, বড় ব্যবসায়ী ও ডামি এমপির কোম্পানির ফান্ডিংয়ে’।
রাশেদ খান লিখেছেন, ‘আমি শুরুতে অবাক হয়ে মাহমুদুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপে ছবি ও তথ্যপ্রমাণ পাঠাই। তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। আমি বারংবার টেক্সট করে তথ্যপ্রমাণ পাঠিয়েছি, কিন্তু তিনি বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যান এবং আমার কল রিসিভ করাও বন্ধ করে দেন।’
রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, পত্রিকাটির একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি তাঁকে বলেছেন, ‘পত্রিকা চালানোর স্বার্থে’ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পত্রিকা ছেঁড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি একটি মিথ্যা ন্যারেটিভকে ছিঁড়েছি। হাসিনাপুত্রের (সজীব ওয়াজেদ জয়) সঙ্গে আমি এক হয়েছি মর্মে “আমার দেশ” পত্রিকা যে মিথ্যাচার করেছে, আমি সেই অসত্যকে ছিঁড়ে ফেলেছি।’
কাজটি কোনো লাইভ ভিডিওতে করেননি বলেও জানান রাশেদ খান। তাঁর কথায়, একটি আনুষ্ঠানিক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের প্রতিবাদ পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।
রাশেদ খানের দাবি, জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের যে অভিযোগ উঠেছে, সেখান থেকে দৃষ্টি সরাতেই পরিকল্পিতভাবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তাঁর যুক্ত থাকার অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারীর মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাটি ভালোভাবে নেননি অন্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির শীর্ষ নেতারা তাঁর এমন আচরণের তীব্র বিরোধিতা ও সমালোচনা করেছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে অবশ্য দৈনিক ‘আমার দেশ’ কর্তৃপক্ষ কিংবা সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
