ছবিঃ সংগৃহীত
শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানের হারে টুর্নামেন্ট থেকে শূন্য হাতে ফিরতে হলো লিটনবাহিনীকে, যার মূলে চরম ব্যাটিং ব্যর্থতা। সোনা-রুপা দূরে থাক, বাংলাদেশ এবারের এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদকটিও জিততে পারল না। দুই অঙ্কের রানে পৌঁছাতে পারেননি ম্যাচের ছয় ব্যাটসম্যানের কেউই।
ম্যাচটি হয়েছে শনিবার, জাপানের নিশিনে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে। লঙ্কানরা ১৬৬ রানের টার্গেট দিলে তা তাড়া করতে নেমে এদিন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ।
রানের খাতা খোলা হয়নি টপ অর্ডারের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের কারও। অধিনায়ক লিটন দাস সাজঘরে ফেরেন প্রথম বলেই, সাইফ হাসান পাঁচ বল ও তানজিদ হাসান দুই বল খেলেন। বাংলাদেশ চারটি উইকেট হারায় দলীয় ১৮ রানের মধ্যে, আর ৫০ রানের মধ্যে পড়ে ছয়টি উইকেট। ১৭.৩ ওভারে সব উইকেট খুইয়ে লিটনবাহিনীর ইনিংস শেষমেশ থামে ১০২ রানে।
নাসুম আহমেদের ২৬ রানই দলের সর্বোচ্চ। ২১ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রাহক ইয়াসির আলী। এর বাইরে পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাট থেকে আসে ২০, তাওহীদ হৃদয়ের ১১, রিশাদ হোসেনের ১০, আলিস আল ইসলামের ৪ এবং মুস্তাফিজুর রহমানের ৩ রান। রানের খাতা খুলতেই পারেননি মেহেদী হাসান।
শ্রীলঙ্কা টস জিতে আগে ব্যাটিং বেছে নেয়। ভালো শুরু পায়নি লঙ্কানরা, তবে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তারা ঘুরে দাঁড়ায়। তাদের ৪টি উইকেট পড়ে দলীয় ২১ রানের মধ্যে এবং ৫ উইকেট পড়ে ৫৪ রানের মধ্যে; যথাক্রমে ২, ৩, ৬ ও ১ রান করেন ব্যাটিং অর্ডারের শীর্ষ ৪ ব্যাটার। মুস্তাফিজুর রহমান বল হাতে আজও ছিলেন মলিন।
২৪ বলে ১৮ রানের সংগ্রামী ইনিংস খেলা আশেন বান্দারার বিদায়ের পর অধিনায়ক সাহান আরাচ্চিগে ও থারিন্দু রত্নায়েকে দলের হাল ধরেন। মুস্তাফিজ ১৪তম ওভারে বল করতে এলে সেই ওভার থেকে ২৫ রান তুলে লঙ্কানরা রান রেট নিয়ে যায় ছয়ের ওপরে। ওভারটিতে অতিরিক্ত খাতে রান দেওয়ার কারণে মুস্তাফিজকে বল করতে হয় ১১ বার।
ছন্দ খুঁজে পেতে মুস্তাফিজকে এদিনও ধুঁকতে হয়েছে, ঠিক আগের ম্যাচের মতো। তবে ১৭তম ওভারে ফের বল হাতে নিয়ে আরাচ্চিগেদের ভুগিয়েছেন তিনি। ওভারটির শুরুতে একটি চার হজম করেন, দুটি ওয়াইডও দেন; কিন্তু বাকি ৫ লিগ্যাল ডেলিভারিতে তিনি দেন সাকুল্যে ৫ রান।
তবে আরাচ্চিগে-থারিন্দু জুটি বাংলাদেশের আফসোস ক্রমে বাড়িয়ে তোলে; ১৮তম ওভারে পারভেজ হোসেন ইমনের হাত থেকে ক্যাচ ফসকে গেলে সেই আফসোস আরও বাড়ে। জুটিটি ভাঙেন মুস্তাফিজই, ১৯তম ওভারে; ওই ওভারেই আরেকটি উইকেটও পান তিনি।
সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ৩২ বলে ৬৫ রান করে তবেই বিদায় নেন থারিন্দু। শ্রীলঙ্কা খেই হারিয়ে ফেলে শেষ ওভারে; সেই এক ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নেন সাইফ হাসান। ক্যাচ ধরার পর বাউন্ডারি লাইনে পা লেগে যাওয়ায় একটি উইকেট হাতছাড়া হয় শেখ মেহেদীর।
নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ থামে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানে। মুস্তাফিজ ও মেহেদীও সাইফের মতোই পেয়েছেন দুটি করে উইকেট।
বাংলাদেশ
সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, ইয়াসির আলী, রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, আলিস আল ইসলাম।
শ্রীলঙ্কা
সিনেথ জয়াবর্দেনা, লাসিথ ক্রুসপুলে, সোহান ডি লিভেরা, নুয়ানিন্দু ফার্নান্দো, সাহান আরাচ্চিগে (অধিনায়ক), আশেন বান্দারা, দুশান হেমন্ত, ওয়ানুজা সাহান, নুয়ান তুষারা, থারিন্দু রত্নায়েকে ও বিজায়কান্ত ভিয়াশকান্ত।