ছবিঃ সংগৃহীত
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে লিড ৩৫০ ছাড়িয়ে ৩৫২ রানে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ। সোমবার চতুর্থ দিনে এ খবর লেখার সময় ৭৯ ওভারে ছয় উইকেট খুইয়ে ২৫৪ রান করেছে শান্তর দল। লিটন দাস খেলছেন ২৭ রানে, মিরাজ ৯ রানে।
টাইগাররা চতুর্থ দিনের খেলায় নেমেছিল ছয় উইকেট হারিয়ে ৩২৯ রানের লিড নিয়ে। গতকাল তৃতীয় দিনে হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের দাপুটে বোলিংয়ের সামনে আড়াইশো রানও করতে পারেনি আফগানিস্তান; প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানে থামে তারা। ফলে ১০৬ রানের বড় লিড পায় বাংলাদেশ।
দুজনে মিলে আফগানদের ৯টি উইকেট তুলে নেন হাসান ও এবাদত। হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের স্মরণীয় দিনে ইতিহাস লেখেন হাসান। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ।
চার উইকেট হারিয়ে আগের দিনের সংগ্রহ ২১১—এ অবস্থায় তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে আফগানিস্তান। দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য রঙিন স্বপ্নের মতোই হয়; এবাদত হোসেন চৌধুরীর হাত ধরে আসে প্রথম আঘাত।
ইকরাম আলিখিল ১০৩ বল খেলে ৩২ রান করে এবাদতের শিকার হন। পরের ওভারে আসে হাসান মাহমুদের চমক: ৮৩তম ওভারের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম বলে পরপর ইসমাত আলম, কাইস আহমেদ ও জিয়াউর রহমানকে আউট করেন তিনি। ইসমাত এক রান করতে পেরেছিলেন, কিন্তু বাকি দুজন গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন। এভাবে টানা তিন বলে তিন উইকেটে দারুণ হ্যাটট্রিকের দেখা পান হাসান মাহমুদ।
এরপর ইয়ামিন আহমেদ জাইকে সাজঘরে পাঠিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। টেস্টে ৫০ উইকেট ছোঁয়া দ্রুততম বাংলাদেশি পেসারও হয়ে যান তিনি। আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ অবশ্য উইকেটে টিকে থেকে সেঞ্চুরি তুলে নেন; ২১৬ বল খেলে ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ সেলিমকে ফিরিয়ে আফগানদের ইনিংসের ইতি টানেন এবাদত হোসেন, দলটি থেমে যায় ২৪০ রানে।
উইকেটের হিসাবে হাসান পাঁচটি, এবাদত চারটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ একটি উইকেট নেন।
এই হ্যাটট্রিকে টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে কীর্তিটি গড়েন হাসান, আর পেসার হিসেবে তিনিই প্রথম। তার আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী—দুজনেই স্পিনার।