
সানার পূর্বে আল-শারিয়াহতে ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ উদ্ধার, ৩৩ মৃত্যুর দাবি হুতিদের
ছবিঃ সংগৃহীত
নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন সৌদি আরবের বিমান হামলায় — এমন দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অবশ্য এ নিয়ে এখনো কিছু বলেনি।
হুতিদের পরিচালিত টেলিভিশন আল মাসিরাহ সরাসরি যে ভিডিও দেখিয়েছে, তাতে রাজধানী সানার পূর্বের শহর আল-শারিয়াহতে কয়েকটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকর্মীদের মৃতদেহ বের করে আনতে দেখা যায়।
উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে শিশুরাও আছে। কয়েকজন আহত মানুষকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্যও দেখিয়েছে চ্যানেলটি।
হুতি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থার ভাষ্য, গতকাল শনিবার হামলাটি চালায় সৌদি আরব। আহত হয়েছেন ৩৯ জন।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়ছে একটি জোট, যার নেতৃত্বে সৌদি আরব।
কয়েক বছর মোটামুটি শান্ত থাকার পর সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের জেরে ইয়েমেন আবার অস্থির হয়ে উঠেছে। একটি ইরানি বিমানের অবতরণ ঠেকাতে সৌদি আরব হুতি-নিয়ন্ত্রিত সানা বিমানবন্দরে হামলা চালালে ভেস্তে যায় যুদ্ধবিরতি।
এরপর হুতিরা সৌদি আরবের আভা বিমানবন্দরকে নিশানা করে, তারপর লোহিত সাগরে একের পর এক সৌদি জাহাজে হামলা শুরু করে। ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের উপকূল ব্যবহার করছে সৌদি আরব।
এদিকে গত শুক্রবার তাইজ প্রদেশের একটি বাজারে হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে আছে প্রদেশটি।
সেই হামলার দায় সৌদির ঘাড়ে চাপিয়েছে হুতিরা; আর সরকারি বাহিনী সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দুষছে হুতিদের।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, নতুন করে লড়াই শুরুর পর ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩ লাখের বেশি।
হুতি অবস্থানগুলোতে নিয়মিত বোমা ফেলছে সৌদিরা। অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের ভেতরে বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাসহ নানা লক্ষ্যে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
আল-শারিয়াহতে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, রিয়াদের দিকে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ঠেকিয়ে দিয়েছে। ইয়েমেনে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন হুতি নেতা মাহদি আল-মাশাত।
প্রেক্ষাপট
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ মোটামুটি থেমে ছিল; বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মধ্যে চলতি বছরের জুলাইয়ে তা আবার ছড়িয়ে পড়ে।
সানা বিমানবন্দরে হামলার দায় নিয়ে সূত্রভেদে তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। গ্রিসের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরআইইএএস ১৯ জুলাই লিখেছে, ১৩ জুলাই সানা বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলার দায় স্বীকার করেছিল সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকার, ইরানি বিমানের অবতরণ ঠেকানোর কথা বলে।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
প্রেক্ষাপট সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, তারিখ অনুল্লিখিত; আরআইইএএস, ১৯ জুলাই ২০২৬
