ছবিঃ সংগৃহীত
সিলেট টেস্টে বাংলাদেশ যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে, তা নয়। একসময় ক্যারিবীয়দের ১০০-র বেশি লিড নেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল; উল্টো লিড নেয় নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে অনায়াসে রান তুলছে সফরকারীরা, গড়ছে রানের পাহাড়।
গতকাল তাওহীদ হৃদয়ের ২৪২ রানের অতিমানবীয় ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতা যেখানে নিয়মিত ছবি, সেখানে এবার দারুণ ব্যাট করেছে স্বাগতিকেরা। তবে চতুর্থ দিনে বোলাররা প্রায় কিছুই করতে পারেননি। মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৩৪৫ রান, লিড ৩১৫।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে আজ দিন শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ওপেনার জশুয়া ডা সিলভা ও ব্র্যান্ডন কিং সাবধানে খেলছিলেন। প্রথম উইকেট পড়ে ৮৫ রানে — ২২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সিলভাকে (৩০) এলবিডব্লু করেন তাইজুল।
খানিক পরে আরেক ওপেনারকেও প্রায় হারাতে বসেছিল তারা। ২৬তম ওভারের প্রথম বলে তাইজুলকে জোরে কাভার ড্রাইভ করেন কিং; বল এত দ্রুত আসে যে তালুবন্দী করার সময়ই পাননি তাওহীদ হৃদয়। তিন নম্বরে নামা কাভেম হজ বাঁচেন রিভিউ নিয়ে। একই ওভারের পঞ্চম বলে মিরাজকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে বল তুলে দেন হাওয়ায়, ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ফিল্ডার ক্যাচ ধরলে আম্পায়ার দ্রুত আঙুল তোলেন। কিন্তু রিভিউতে দেখা যায়, বল ব্যাট বা গ্লাভস ছোঁয়নি, লেগেছে শুধু প্যাডে।
হজ যখন বেঁচে যান, তখন তাঁর রান ১৬। সেবার অবশ্য এলবিডব্লু যাচাই করা হয়নি। দ্বিতীয় উইকেটে হজ-কিং জুটি এনেছিল কেবল ৩৪ রান। ৩১তম ওভারের প্রথম বলে কিংকে ফেরান মিরাজ — ব্যাটের কানায় লাগা বল ক্ষিপ্রতার সঙ্গে প্রথম স্লিপে মুঠোয় নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
কিং ফেরেন ৮৪ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৬১ রান করে। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৩০.৫ ওভারে ২ উইকেটে ১১৯। মধ্যাহ্নবিরতির আগে আরও ৯ রান যোগ করে সফরকারীরা, চা-বিরতির আগেও আর উইকেট হারায়নি।
প্রথম সেশনের পর তুলনামূলক আক্রমণাত্মক হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় উইকেটে ২২১ বলে ১৬৫ রানের জুটি গড়েন হজ ও কেভিন উইকহাম — এই ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক উইকহামের। ৬৮তম ওভারের চতুর্থ বলে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে তাঁকে ফেরান বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
প্রথম ইনিংসে ৬১ রান করা উইকহাম দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৭৮। তিনি না পারলেও হজ ঠিকই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন — ১৪২ বলে, টেস্টে তাঁর তৃতীয়। চতুর্থ উইকেটে আমির জাঙ্গুকে নিয়ে ৯২ বলে ৬১ রানের জুটিও গড়ে ফেলেন তিনি। ৮৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান হওয়ার পর আলোকস্বল্পতায় খেলা থেমে যায়। শেষ বিকেলে আলোর অভাবে আগেভাগে দিন শেষ হওয়া সিলেট টেস্টে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেষ পর্যন্ত ৮৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রানেই থামে চতুর্থ দিনের খেলা। হজ অপরাজিত আছেন ১৮৯ বলে ১৭ চার ও ১ ছক্কায় ১৪০ রানে, জাঙ্গু ব্যাট করছেন ২০ রানে। শেষ বিকেলে বারবার ফিজিওকে মাঠে ছুটে আসতে হয়েছে; কখনো শান্ত, কখনো তাইজুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাসকে দেখতেও দুবার আসেন ফিজিও। তাইজুল নিয়েছেন ২ উইকেট, মিরাজ ১টি।
প্রেক্ষাপট
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের ২২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৩৫০ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস ঘোষণা করেছিলেন তাওহীদ হৃদয়; ওই ইনিংসে তিনি তামিম ইকবালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
প্রেক্ষাপট সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

