ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে হামলায় আলোচনার পথ জটিল হয়েছে, মনে করেন ট্রাম্প
ছবিঃ সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য দেশটির কোন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে, সেটি ঠিক করাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ধারণা, ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে সামরিক হামলা চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে, আর এর ফলেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (স্থানীয় সময়) ওহাইও অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত একটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বকে নিশানা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত অনেকটা বেশিই এগিয়ে গেছে; ফলে এখন কার সঙ্গে কথা বলা উচিত, সেটুকু বোঝাও দুরূহ হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র কার সঙ্গে আলোচনায় বসবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া দেশটির জন্য বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে—এমন মন্তব্যও করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তার কাছে মনে হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনের তুলনায় হয়তো বেশি দূর চলে গেছে।
অন্যদিকে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক নীতি এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবকে ঘিরে চাপের মুখে পড়েছে ক্ষমতায় থাকা রিপাবলিকান পার্টি। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতেও প্রচারে নেমেছেন তিনি।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে, আর ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। এমারসন কলেজের সর্বশেষ জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন ৫৩ শতাংশ, যেখানে রিপাবলিকানদের পক্ষে রয়েছে ৪২ শতাংশ।
একই জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সন্তুষ্টির হারও তুলনামূলকভাবে কম উঠে এসেছে। তার কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন মাত্র ৩৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক; বিপরীতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৫৮ শতাংশ। অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়া, শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে একাংশ ভোটারের অসন্তুষ্টি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। এমনকি দলটির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত টেক্সাস ও ওহাইওতেও প্রার্থীদের কঠিন লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় প্রচারণায় আরও গতি এনেছেন ট্রাম্প। ওহাইওতে তিনি রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। পাশাপাশি আলাস্কাসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে দলের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন রিপাবলিকান নেতারা।
আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের প্রতিটিতে এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর ও স্থানীয় আইনসভার হাজারো পদেও প্রতিনিধি বেছে নেবেন ভোটাররা। কংগ্রেসের দুই কক্ষের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হবে, আর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ভোট হবে ৬ হাজার ১৩৯টি আসনে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র চারটি এবং সিনেটে চারটি আসন ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের দখলে নিতে পারলে কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হতে পারে।