একই সৈকতে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখার সুযোগই কুয়াকাটার স্বাতন্ত্র্য, আন্তর্জাতিক মানে নিতে পরিকল্পিত উন্নয়নের আহ্বান পর্যটনমন্ত্রীর
ছবিঃ সংগৃহীত
পরিকল্পনামাফিক উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং পরিবেশ রক্ষা—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ তিন বিষয়ের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
মন্ত্রীর ভাষায়, ’কুয়াকাটা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি। যথাযথ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন করা হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।’
গতকাল শুক্রবার পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় হোটেল খান প্যালেসে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা হয়। সেখানেই মন্ত্রী এ বক্তব্য দেন বলে আজ প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সভায় কুয়াকাটার বিশেষ পর্যটন সম্ভাবনার দিকটি তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, এখানকার একই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়; সঙ্গে আছে বিস্তৃত বালুকাবেলা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য—এসবই এ পর্যটনকেন্দ্রকে আলাদা আকর্ষণ এনে দিয়েছে।
কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সৈকত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখার ওপর জোর দেন: পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মানসম্মত আবাসন।
সৈকত এলাকায় আধুনিক গণশৌচাগার, নিরাপদ খাবার পানি, বসার জায়গা, পর্যটক তথ্যকেন্দ্র, গাড়ি রাখার ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু করারও আহ্বান জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশ দিতে হলে প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড নিয়োগ দিতে হবে, উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে হবে।
কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনার পুরো সুফল পেতে হলে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
মন্ত্রীর আরেকটি পর্যবেক্ষণ ছিল স্থানীয় মানুষদের নিয়ে। তিনি বলেন, পর্যটনের উন্নয়নে এলাকার জনগোষ্ঠী ও ব্যবসায়ীদের যুক্ত করা গেলে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে, স্থানীয় অর্থনীতিও আরও মজবুত হবে।
পর্যটন ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাত বেশি করে যুক্ত হলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উদ্যোগ সমন্বিতভাবে নেওয়া এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকতে রূপ দেওয়া সম্ভব। তাতে দেশের পর্যটনশিল্প যেমন বিকশিত হবে, তেমনি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বড় অবদান রাখা যাবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসন-৪৯-এর সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম, পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টিও সভায় ছিলেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও সাংবাদিকরাও সভায় যোগ দেন।
সংখ্যার হিসাব
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফের হিসাবে, ২০২২ সালে সেখানে ১৩০টি হোটেল-মোটেল ছিল; এর মধ্যে নিবন্ধিত ছিল ৭৪টি, বাকি ৫৬টির নিবন্ধন ছিল না — প্রথম আলো ইংরেজি সংস্করণ ২০২২ সালের ১৩ জুলাই এ তথ্য জানিয়েছে।
একই প্রতিবেদনে সমিতির ওই নেতা জানান, ২০২২ সালের ঈদের পর কুয়াকাটায় প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যটক আসছিলেন।
চার বছর পরের চিত্র এসেছে দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে: কুয়াকাটায় এখন তিন শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, যেগুলোতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা আছে।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: প্রথম আলো (ইংরেজি), ১৩ জুলাই ২০২২; দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ২০ অক্টোবর ২০২৬