সিনেটর কলিন্সের তদবিরের পর প্লাইউড-কাগজসহ কিছু কানাডীয় পণ্যে শুল্ক তুলল ট্রাম্প প্রশাসন, নতুন শুল্ক কার্পেট-ভালভে
ছবিঃ সংগৃহীত
ঝুঁকিতে থাকা রিপাবলিকান দলের এক প্রার্থী তদবির করার কথা জানানোর পর কানাডা থেকে আমদানি করা কয়েকটি পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে, শুক্রবার এ সিদ্ধান্ত আসে।
বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুযায়ী, শুল্কছাড় পাওয়া পণ্যের তালিকায় আছে প্লাইউডের শিট, কয়েকটি কাগজজাত পণ্য, নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রপাতি এবং শীতলীকরণ সরঞ্জাম।
সিদ্ধান্তটি রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের পক্ষে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তঘেঁষা অঙ্গরাজ্য মেইনে ডেমোক্র্যাট দলের শক্ত এক প্রতিদ্বন্দ্বীর মোকাবিলা করছেন তিনি। ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধে অঙ্গরাজ্যটির বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলিন্স লিখেছেন, মেইনের কৃষিশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নানা পণ্যে তিনি শুল্কছাড় আদায় করেছেন। ব্লুবেরি, আলু, আপেল ও সামুদ্রিক শৈবাল উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ রয়েছে এ তালিকায়।
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হাত থেকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে চাইছে ডেমোক্র্যাটরা। সেই লক্ষ্যে কলিন্সের সিনেট আসনকে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অর্থনীতি একে অপরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। কানাডা যত পণ্য রপ্তানি করে, তার প্রায় ৭০ শতাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র।
গত আগস্টে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েছে, আর এর জের ধরে একের পর এক নতুন শুল্ক বসিয়েছেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউস জানায়, শুক্রবারের সিদ্ধান্তে কিছু পণ্যের শুল্ক তুলে নেওয়া হলেও কার্পেট, নির্দিষ্ট ধরনের ভালভ ও বর্জ্যজাত পণ্যসহ কয়েকটি নতুন পণ্যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ৩০ অক্টোবর থেকে নতুন এসব ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যের দায়িত্বে থাকা কানাডার মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক এএফপিকে পাঠানো বিবৃতিতে জানান, শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে কানাডা অবগত।
তিনি বলেন, ‘এসব পদক্ষেপ পর্যালোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে কানাডা প্রস্তুত রয়েছে।’
সিনেটর কলিন্সের ভাষ্য, তাঁর অঙ্গরাজ্যের বহু কৃষক কানাডা থেকে আনা বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি, প্যাকেজিং উপকরণ ও অন্যান্য পণ্যের ওপর নির্ভর করেন। এর কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছে মেলে না; আর বিকল্প পণ্য ব্যবহার করতে গেলে খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়।
গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাঠের ওপর ট্রাম্পের আগের শুল্ক কানাডার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে; দেশটিতে কর্মসংস্থান কমেছে, প্রবৃদ্ধিও বাধার মুখে পড়েছে।
চলতি বছর টানা দুই প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ায় কানাডা প্রযুক্তিগত মন্দায় ঢুকে পড়েছে।
বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর ট্রাম্প যে শুল্ক বসান, তার আওতায় পড়েছে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্য, যা যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। হকির স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্ট পর্যন্ত নানা পণ্য এর মধ্যে রয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্ধু-প্রতিপক্ষ নির্বিশেষে বিভিন্ন দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক বসিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছেন ট্রাম্প।
তাঁর দাবি, বহু বছর ধরে অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করে আসছে।
সংখ্যার হিসাব
কানাডিয়ান প্রেস পরিবেশিত বিএনএন ব্লুমবার্গের ২৯ মে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার প্রাথমিক হিসাবে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে দেশটির প্রকৃত জিডিপি ১ শতাংশ কমেছিল এবং ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বার্ষিক হারে কমেছিল শূন্য দশমিক ১ শতাংশ; তবে টানা এ দুই সংকোচনকে প্রযুক্তিগত মন্দা বলা যায় কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ ছিল।
পরে ৩০ আগস্ট সিনহুয়া পরিবেশিত নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সংশোধিত হিসাবে প্রথম প্রান্তিকে অর্থনীতি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে বার্ষিক হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ; ফলে দেশটি প্রযুক্তিগত মন্দা এড়িয়েছে। মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে এ বিষয়ে সূত্রভেদে তথ্যের পার্থক্য রয়েছে।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: বিএনএন ব্লুমবার্গ (কানাডিয়ান প্রেস), ২৯ মে ২০২৬; নিউ স্ট্রেইটস টাইমস (বারনামা-সিনহুয়া), ৩০ আগস্ট ২০২৬