১৮ থানায় রাতভর একযোগে অভিযান: কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইবিরোধী তৎপরতায় আটক ২৭৫, মুচলেকায় ছাড়া ১৩৩
ছবিঃ সংগৃহীত
জেলার ১৮টি থানায় একযোগে চালানো বিশেষ অভিযানে ২৭৫ জনকে আটক করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া অভিযান চলে আজ শনিবার ভোর পর্যন্ত। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান।
আটক ব্যক্তিরা কোনো অপরাধে জড়িত কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে ১৪২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; বাকি ১৩৩ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবক বা জিম্মাদারের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রের তথ্যমতে, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানার পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মিলে এ অভিযানে অংশ নেয়। নগরী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার অপরাধপ্রবণ জায়গাগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। যেসব স্থানে কিশোরদের আড্ডা ও উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর ওপর নজরদারি বিশেষভাবে বাড়ানো হয়।
জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মাঠে থেকে সরাসরি অভিযানে অংশ নেন। মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকানোর পাশাপাশি অপরাধে জড়িতদের চিহ্নিত করাও এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, উঠতি বয়সের কিশোর-তরুণেরা যেন অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশ নিয়মিত যে অভিযান চালায়, এটি তারই অংশ। কে অপরাধে জড়িত, তা যাচাই করেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কিশোর অপরাধ, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাই রোধে এমন অভিযান চলতে থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সংখ্যার হিসাব
পুলিশ সূত্রের তথ্য উল্লেখ করে একই প্রতিবেদনে দফাওয়ারি হিসাবও দেওয়া হয়: প্রথম দফায় ৬২৪ জন আটক হন, যাঁদের ৪৫১ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়; দ্বিতীয় দফায় ২৫৪ জন এবং তৃতীয় দফায় ১৮টি থানায় ৪১৫ জনকে আটক করা হয়।
জেলার প্রেক্ষিত
কুমিল্লায় গত মাসেও কিশোর গ্যাংবিরোধী ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছিল জেলা পুলিশ। ঢাকা টাইমসের ২৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন দফার ওই অভিযানে মোট ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করা হয়েছিল।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: ঢাকা টাইমস, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬