জাতিসংঘ দিবসের বার্তা: নিরাপত্তা পরিষদের অর্থবহ সংস্কারে বাংলাদেশের সমর্থনের কথা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত
জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বার্তায় বহুপাক্ষিকতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কারেও বাংলাদেশ সমর্থন দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বার্তায় তিনি জানান, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন; এ অর্জনে বহুপাক্ষিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার যে অঙ্গীকার সরকারের রয়েছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
হুমায়ুন কবির জানান, আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, স্বচ্ছ ও কার্যকর একটি জাতিসংঘের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান। বিশ্ব সংস্থাটি যাতে সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা পরিষদের অর্থবহ সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোকে বাংলাদেশ সমর্থন করে।
তাঁর ভাষায়, ‘ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের এ সময়ে বহুপাক্ষিকতা শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং এটি অপরিহার্য।’
সংলাপ, বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার অঙ্গীকার নতুন করে ব্যক্ত করারও আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব দাঁড়িয়ে আছে বাস্তব কাজ ও সংহতির ওপর। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে শীর্ষ অবদানকারী দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা পৃথিবীর নানা প্রান্তে কঠিন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ এগিয়ে নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের রয়েছে, সেটিও তিনি আবার তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্বের পরিসর বিস্তৃত; টেকসই উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো, দারিদ্র্য বিমোচন, লিঙ্গসমতা ও মানবিক কার্যক্রমসহ নানা ক্ষেত্রে এ সহযোগিতা চলছে।
মিয়ানমার থেকে জোর করে বাস্তুচ্যুত করা ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা এখনো বাংলাদেশের আশ্রয়ে রয়েছে—এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তার সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশ, স্বল্পোন্নত দেশ ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
জাতিসংঘ ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে জাতিসংঘ সনদ যে স্থায়ীভাবে প্রাসঙ্গিক এবং সম্মিলিত উদ্যোগ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, জাতিসংঘ দিবস সে কথাই মনে করিয়ে দেয়।
বার্তার শেষে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করে আস্থা পুনরুদ্ধার করি, বিভেদ দূর করি এবং এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলি, যেখানে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধি সবার মধ্যে ভাগাভাগি হবে।’
প্রেক্ষাপট
গত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত ভোটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন — দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২ জুন এ খবর দিয়েছে।
সংখ্যার হিসাব
টিবিএসের ২ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে মোট ১৯০টি ব্যালটের মধ্যে খলিলুর রহমান পান ৯৯ ভোট; প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিস পান ৯১ ভোট।
সূত্র
প্রেক্ষাপট সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২ জুন ২০২৬