কিশোরগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু
ছবিঃ সংগৃহীত
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। কয়েকজন শ্রমিক মিলে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ওপরে রড ওঠানোর সময় আচমকা রডের বান্ডেলটি ভবনের বাইরের একটি এসির বৈদ্যুতিক লাইনে লেগে যায়, আর মুহূর্তের মধ্যেই ওই দুজনের মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরান থানা ইসলামী মার্কেটের সামনে সামাদ প্লাজার নির্মাণকাজে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটে এই দুর্ঘটনা।
নিহত দুজনের একজন আফাজুল (৩৪); তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জিনারাইল গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে। অন্যজন হোসেনপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের সাব্বির (২৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, শহরের পুরান থানা এলাকার সামাদ প্লাজায় দুপুরে নির্মাণকাজে নিয়োজিত ছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। সে সময় রড টেনে তোলা হচ্ছিল ভবনটির ওপরের অংশে। এরই একপর্যায়ে এসির লাইনে রডের বান্ডেল লেগে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন দুই শ্রমিক।
দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধারে চেষ্টা চালান আশপাশের মানুষ। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে ওই দুই শ্রমিককে উদ্ধার করেন, তবে ততক্ষণে তাঁরা আর বেঁচে ছিলেন না।
বাসসকে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মুর্শেদ বলেন, ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ভবনের বাইরের এসির বৈদ্যুতিক সংযোগে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত লোহার রড লেগে যাওয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন দুই শ্রমিক। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা তদন্তের পরই কেবল নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন বলেন, ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং আশপাশে ঝুঁকি আছে এমন স্থানগুলো নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগেই নিরাপদ করে নেওয়া দরকার ছিল। একটুখানি অসাবধানতার কারণে একই সঙ্গে প্রাণ হারালেন দুজন শ্রমিক।
এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আগামীতে এড়ানো যায়, সে জন্য নির্মাণকাজে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
বাসসকে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ পাঠানো হয়েছে ঘটনাস্থলে।
ঘটনাটির তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা। উদ্ধারের পর মরদেহ পাঠানো হয়েছে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।