‘ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু দেশ এক’: কেরানীগঞ্জে মহালয়ার অনুষ্ঠানে নিপুণ রায়
ছবিঃ সংগৃহীত
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে; একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া দক্ষিণপাড়ায় শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দির ও দুর্গামণ্ডপে শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহালয়া ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদে বসবাস এবং নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা দরকার। সমাজের অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে সবাইকে।
তাঁর মতে, সমাজের প্রান্তিক ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব সবার। আর্থিক সংকটের কারণে ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ থেকে যেন কেউ বঞ্চিত না হন। পূজার উপহারসামগ্রী বিতরণের মতো উদ্যোগে মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রকাশ ঘটে। সব সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে সমান সুযোগ পান, সে জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর করে গড়ে তুলতে হবে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। কোনো অন্যায় বা ষড়যন্ত্রের কারণে দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সবার সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।
নিপুণ রায় বলেন, ‘আমাদের ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু দেশ এক। আমরা সবাই বাংলাদেশকে ধারণ করি। আমাদের সবার স্লোগান- সবার আগে বাংলাদেশ।’
কেরানীগঞ্জে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ সময় আহ্বান জানান তিনি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছাও জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী লাট মিয়া, তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক খোরশেদ আলম জমিদার, সদস্যসচিব সামিউল্লাহ, ঢাকা জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক জুয়েল মোল্লা, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য রায়হান মিয়াসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।