‘পুরোনো ঐক্য নতুন করে সক্রিয়’, সরকার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা পরিকল্পিত: প্রতিমন্ত্রী অমিত
ছবিঃ সংগৃহীত
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মনে করেন না যে, সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাত মাস বয়সী সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় নতুন করে মাঠে নেমেছে পুরোনো একটি ঐক্য। বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, বরং নির্বাচনের আগে ও পরে পরিবর্তিত সরকারকে অস্থিতিশীল করতে যে সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা, এটি তারই অংশ।
মেহেরপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে জেলা বিএনপির আয়োজনে এক আলোচনা সভা হয়; সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথাগুলো বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ সংগঠনের ঐক্যের ইতিহাস অজানা হলেও প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের তা ভালো করেই জানা আছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল আশির দশকে, যখন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা গড়ে উঠছিল।
তিনি বলেন, সে সময় আন্দোলন-সংগ্রামে একদিকে ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, অন্যদিকে শেখ হাসিনা। তখন কারা জাতীয় ঐক্যের পিঠে ছুরি মেরেছিল, সেটিও ইতিহাসেরই অংশ। এরশাদের পাতানো ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে কারা অংশ নিয়েছিল—সেই ইতিহাস তুলে ধরলেই ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ সংগঠনের পুরোনো ঐক্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জনগণের ভোটাধিকারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই করে এসেছে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী। তার কথায়, ‘মনে রাখবেন, বিএনপির চেয়েও তাদের বেশি ক্ষোভ বাংলাদেশের জনগণের প্রতি।’
তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার খর্ব করার রাজনীতি তারাই করেছে, যাদের আস্থা নেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার আদর্শ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে তাদের বিশ্বাস থাকলে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আয়োজন তারা করত না। পরবর্তী সময়ে দিনের ভোট রাতে করার যে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি সেটিকেও তাদের রাজনৈতিক চর্চার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অমিত বলেন, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের বিষয়ে দেশের মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। রাজনীতি করতে হবে জনগণের ওপর আস্থা রেখেই। ষড়যন্ত্র বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে জনমত উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুর জয়ন্ত কুমার কুন্ডু।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আমজাদ হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নানা স্তরের নেতাকর্মী।