রোহিঙ্গা মামলার আইনি তহবিল ও মানবিক সহায়তায় ওআইসির পাশে থাকার আহ্বান বাংলাদেশের
ছবিঃ সংগৃহীত
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোকে বাংলাদেশ আহ্বান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়া যে রোহিঙ্গা মামলা দায়ের করেছে, তার আইনি তহবিলে যেন তারা সহায়তা দেয় এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজেদের দেশে না ফেরা পর্যন্ত জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা চালু রাখে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই আহ্বান জানান বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সমন্বয় সভায়। ঢাকায় পাঠানো একটি বার্তা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘গাম্বিয়ার আইসিজে কার্যক্রম চালানোর আইনি তহবিলে এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা চালু রাখতে আমরা সহযোগিতা চাই।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ এখনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে চলেছে। ওআইসির সদস্য দেশগুলো যেন তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে কার্যকর ভূমিকা নেয়, সে আহ্বানও জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির ওআইসির বৃহত্তর অগ্রাধিকার তুলে ধরতে গিয়ে গুরুত্ব দেন বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আরও জোরালো সহযোগিতার ওপর। তিনি বলেন, ওআইসি সদস্য দেশগুলোর ২০২৪ সালের মোট বাণিজ্যের মধ্যে নিজেদের মধ্যে হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ; এ হার ২৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়ে ডিজিটাল বৈষম্য কমানোর আহ্বানও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) বাজেট ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বৃত্তি পেয়ে থাকেন।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২০৩৫ মেয়াদের ওআইসি কর্মপরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানান তিনি। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ মতও দেন যে, মানবাধিকার, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ইসলামবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণে ওআইসি অবজারভেটরির ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করা দরকার।
আল-কুদস আল-শরিফকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের আগের সীমানার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। হুমায়ুন কবির ওআইসির চেয়ার হিসেবে তুরস্কের নেতৃত্বের প্রশংসা করার পাশাপাশি পরবর্তী চেয়ার ইরাককে স্বাগত জানান।